পান
খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই। এদের অনেকেই আছেন যারা প্রায় সারাক্ষণই মুখে পান
দিয়েই রাখেন। অনেকের অভ্যাস খাওয়ার পর পান খাওয়া। গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং
প্রায়-গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে সুপারি গাছ জন্মায়। আর এশিয়ায় হয় প্রচুর
পান। পান এবং সুপারি এক সঙ্গে নিয়ে চুন মিশিয়ে খিলি বানিয়ে খাওয়ার অভ্যাস
অনেক দেশের মানুষের। পৃথিবীর প্রায় ১০ শতাংশ মানুষের পান-সুপারির অভ্যাস
আছে। এই উপমহাদেশে পান-সুপারির প্রচলন যথেষ্ট। পানের সঙ্গে অনেকেই
জর্দা-পাতা খান।
এই
উপমহাদেশে পান-সুপারি চিবানোর ঐতিহ্য হাজার বছরের অধিক। অষ্টম শতাব্দীতে
আরব পর্যটকরা এই উপমহাদেশে এসে এই ঐতিহ্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন।
পান-সুপারি ছাড়া এখানে অতিথি আপ্যায়ন পূর্ণ হয় না। পানের রসে মুখ রাঙিয়েই
মুরব্বীদের মধ্যে বর ও কনের বিয়ের আলাপের সূত্রপাত হয়।
পানে ইউজিনল
এবং সুপারিতে এ্যারেকোলিন ও টারপিনিয়ল নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এগুলো
শরীরের তাপ কিছুটা বাড়ায়, ঘামের উদ্রেক করে এবং হার্ট রেট ও রক্তচাপ বাড়ায়।
পান-সুপারি আমাদের শরীরের জন্য মৃদু উত্তেজক। পান চিবানোর সময় মুখে লালার
উদ্রেক হয় এবং লালার মাধ্যমেই পান-সুপারির রাসায়নিক পদার্থগুলো জিহবার নিচ
দিয়ে রক্ত নালীতে প্রবেশ করে। চুনে আছে ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড। চুন
পান-সুপারির উত্তেজনা শক্তিকে কিছুটা দ্রুত, বর্ধিত এবং দীর্ঘ করে, যা তিন
থেকে পাঁচ ঘন্টা স্থায়ী হতে পারে।
পান-সুপারির
কিছু ভাল দিক আছে। মনে করা হয় এগুলো দাঁতের ক্ষয় রোধ করে, দাঁতের
এন্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করে, মুখের দুর্গন্ধ দূর করে, কাজ করার ক্ষমতা
বাড়ায়, ক্রিমি নাশক হিসেবে কাজ করে এবং হজমে সাহায্য করে, আর চুনের
ক্যালসিয়াম দাঁতের জন্য বাড়তি উপকার করে।
পান-সুপারির
অনেক খারাপ দিক রয়েছে। খারাপ দিকগুলো ভাল দিকগুলোকে ছাপিয়ে যায়। পান
খাওয়ার পরপরই মাথা ঘোরা, ঘাম ইত্যাদি হতে পারে। অনেক সময় হাঁপানি, রক্তচাপ
এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। এমনকি হার্ট এ্যাটাকও হতে পারে। দাঁত লাল হয়।
দীর্ঘ দিনের অভ্যাসে দাঁত ও মাড়িতে বিশ্রী দাগ পড়ে। সাময়িকভাবে জিহবা পুরু
হয়। ক্ষুদা মন্দ হয়। জর্দার নিকোটিন নেশার উদ্রেক করে। এখানে সেখানে পানের
পিক ফেলা হয়। ফলে পরিবেশ দূষিত হয়।
সবকিছু
ছাপিয়ে যে ব্যাপারটি আমাদের জন্য আতঙ্কের, তা হলো এই যে, পান-সুপারি মানব
দেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার রিসার্চ এজেন্সী
পান-সুপারিকে মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হিসাবে মনে করে। নিয়মিত পান
খেলে মুখে, জিহবায়, গ্রাসনালীতে এবং পাকস্থলীতে ক্যান্সার হতে পারে। এমনকি
জর্দার জন্য ফুসফুসেও ক্যান্সার হতে পারে। এই উপমহাদেশে মুখের ক্যান্সারের
অন্যতম প্রধান কারণ পান-সুপারি।
অতএব, খারাপ দিকগুলো বিবেচনা করে পান-সুপারির অভ্যাস পরিত্যাগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ্, সহযোগী অধ্যাপক, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ, কমিউনিটি বেজড্ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন