বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১১

প্রাকৃতিক ভেষজ অপরাজিতা

  স্থানীয় নাম : অপরাজিতা
ভেযজ নাম /বৈজ্ঞানিক নাম :  Clitoria ternatia Linn, এটি Popilionaceae এর পরিবার ভূক্ত
ব্যবহার্য অংশ : ফুল, পাপড়ি, মূল ও গাছের লতা
রোপণের সময় : বর্ষাকাল
উত্তোলণের সময় : বছরের যে কোন সময় সংগ্রহ করা যায়।
চাষাবাদের ধরণ : গাছের ডাল বর্ষা কালে স্যাঁত স্যাঁতে মাটিতে রোপন করতে হয়, ছোট ছোট ধূসর ও কালো বর্ণের বিচি রোদে শুকিয়ে নরম মাটিতে রোপন করতে হয়।
আবাদী / অনাবাদী / বনজ : আবাদী ও অনাবাদী বনজ সব ধরণের হয়ে থাকে। তবে সাধারণত: বসত বাড়ির শোভা বর্ধনে বাড়ির আঙ্গিনায় এ গাছ রোপন করা হয়।

 
উদ্ভিদের ধরণ : এটি একটি লতা জাতীয় গাছ। অনেক লম্বা হয়ে থাকে। এর ফুল দুই রঙ্গের-সাদা এবং নীল  হয়ে থাকে।কোনো অবলম্বন পেলে এটি বেড়ে উঠে।  
ঔষধি গুণাগুণ :  অপরাজিতার ফুল, পাপড়ি, মূল ও গাছের লতায় নানান ঔষধি গুনাগুণ রয়েছে। মুর্ছা, হিস্টিরিয়া, বয়:সন্ধি কালীন উন্মাদ রোগ, গলগন্ড রোগ, ফুলা রোগ, আধকপালে ব্যথা শুষ্ক কাশি, স্বরভঙ্গ, ঘন ঘন প্রস্রাব, ইত্যাদি রোগে ঔষধি গুনাগুণ রয়েছে।
মুর্ছা বা হিস্টিরিয়া:  মূর্ছা আক্রমনের সময় এর মূল গাছ ও পাতা থেঁতে ছেঁকে ১ চা চামচ রস কোনো রকমে খাইয়ে দিলে সেরে যায়।  বয়:সন্ধি কালীন উন্মাদ রোগ: বয়:সন্ধি কালীন উন্মাদ রোগ হলে এর মূলের ছাল ৩ থেকে ৬ গ্রাম পরিমাণ নিয়ে শিলে বেটে দিনে ২ বার আতপচাল ধোয়া পানি দিয়ে ৭ দিন খেতে হয়। পানির পরিমাণ ১/৪ লিটার লাগবে।
গলগন্ড রোগ:  গলগন্ড রোগ হলে এর মূল ৫/৬ গ্রাম পরিমাণ ঘি দিয়ে শিলে পিষে অল্প মধু  মিশিয়ে সকাল বিকাল ৭ দিন খেলে ভাল হয়ে যায়।
ফুলা রোগ: পুরানো ফুলা রোগে নীল  অপরাজিতার পাতা, মূল সহ বেটে অল্প গরম করে লাগালে ফুলা সেরে যায়। ফুলা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সকালে লাগিয়ে যতক্ষণ রাখা যায় রাখতে হবে।
ঘন ঘন প্রস্রাব:  শিশু অথবা বয়ষ্ক যারা ঘন ঘন প্রস্রাব করে এই ক্ষেত্রে সাদা বা নীল অপরাজিতা গাছের মূল  সহ রস করে এক চা চামচ প্রত্যেকদিন ২ বার একটু সামান্য দুধ মিশিয়ে সকাল বিকাল এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যায়।
স্বরভঙ্গ :  সমস্ত লতা পাতা দশ গ্রাম পরিমাণ থেঁতলে ৪/৫ কাপ পানিতে সিদ্ধ  করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে দিনে ৩/৪ বার ১৫ মিনিট গারগেল করলে সেরে যায়। ৪/৫ দিন করতে হবে।  শুষ্ক কাশি : অপরাজিতা মূলের রস ১ চা চামচ আধা কাপ  অল্প গরম পানিতে মিশিয়ে নিতে হবে। সেই পানি ১০/১৫ মিনিট মুখেপুরে রেখে দিনে ৩বার ৭ দিন গারগেল করতে হবে। তবে খাওয়া যাবেনা।
আধকপালে ব্যথা :  এ রোগে যখন ব্যথা হয় তখন এক টুকরা মূল ও গাছ থেঁতলে তার রস হাতের তালুতে কয়ফোঁটা নিয়ে নাক দিয়ে টেনে দিনে দু’তিন বার নস্যি নিলে সেরে

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন