অনন্তমূল হচ্ছে লতা জাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম: Hemidesmus indicus (Linn) R.Br. . ইউনানী নামঃ ওশবা (দেশী)। অনন্তমূলের ঔষধিগুণ ব্যাপক। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাক্ষেত্রে এ উদ্ভিদটি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে যে কোন স্থানে অনন্তমূল গাছ পাওয়া যায়। বাড়ীর আঙিনা, পতিত ভূমি, ঝোঁপঝাড়ে অনন্তমূল গাছ পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক ভাবে জন্মায়।
অনন্তমূল গাছের ধরণঃ এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। কোন কিছুর উপর ভর করে কিংবা অন্য গাছকে অবলম্বন করে পেচিয়ে থাকে। মূল অনেক লম্বা হয়। এবং মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে বলে এর নাম হয়েছে অনন্তমূল। পাতা সরল, সরু ও লম্বা, দেখতে কালচে সবুজ। পাতার মাঝখানে শিরা বরাবর সাদা দাগ থাকে। পাতা ও লতার যেকোন অংশ ছিড়লেই সাদা রঙের কষ বের হয়।
অনন্তমূলে পাতা সহ গাছের সমস্ত অংশই মানব দেহের জন্য উপকারী।
খোস পাচড়াঃ অনন্ত মূল গাছের মূল ১-৩ গ্রাম পিষে প্রত্যেক দিন আহারের পর ২ বার আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ দিতে হবে।
প্রদাহ, ব্রণঃ অনন্তমূল গাছের মূল ১-৩ গ্রাম বেটে কুসুম গরম পানি মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে।
খাদ্যে অরুচিঃ অনন্তমূল গাছের পাতা সহ গাছের রস ১০-১৫ মিলি বের করে অল্প পানি দিয়ে খেতে হবে অথবা থেতো করে রাতে গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে রস সকালে খালি পেটে খেতে হবে। তবে ঔষধ সেবন করার কিছুক্ষণ পর নাস্তা খেতে হবে।
হাত-পা জ্বালাঃ গাছের সমস্ত অংশ ৩-৫ গ্রাম পিষে রস করে পানি সহ অল্প চিনি মিশিয়ে প্রত্যক দিন ২ বার খেতে হবে।
রক্ত পরিষ্কারের জন্যও কবিরাজরা অনন্তমূলের নির্যাস ব্যবহার করে থাকেন। এ ছাড়া যৌনব্যাধি নিরাময়েও অনন্তমূলের ব্যবহার রয়েছে। শিশুদের বৃক্ক প্রদাহ নিরাময়ে গ্রাম্য কবিরাজরা সাধারণত এ উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন।
1 মন্তব্য(গুলি):
আপনার লেখা গুলি অনেক ভাল কিন্তু আপনি গাছের ছবি দেননি ছবি দিলে আরও ভাল হত সুন্দর মানের ছবি দেখতে চাইলে নিচের লিংক যান
https://goo.gl/oIJ7ZB
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন