বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১১

রাতে ফুল ফোটা প্রথম অর্কিড!

বি. নকটার্নাম বি. নকটার্নাম
শুধু রাতেই ফুল ফোটে, এমন এক অর্কিডের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন একদল উদ্ভিদবিজ্ঞানী। বিজ্ঞানীদের জানামতে, ২৫ হাজারের মতো পরিচিত অর্কিড প্রজাতির মধ্যে রাতে ফুল ফোটা জাতের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। প্রজাতিটির ব্যতিক্রমী এই আচরণের কারণ এখনো জানা যায়নি।
পাপুয়া নিউগিনির কাছে নিউ ব্রিটেন নামের একটি দ্বীপে নেদারল্যান্ডের এক গবেষক অর্কিডের এ নতুন প্রজাতির সন্ধান পান।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনসের (কিউ গার্ডেন) অর্কিড বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু সুইটম্যান বলেন, এটা খুবই অপ্রত্যাশিত একটা ব্যাপার। কেননা, অর্কিডের বহু প্রজাতি রয়েছে। কিন্তু এর কোনোটাই রাতে ফোটে না। তিনি আরও বলেন, অর্কিড নিয়ে এত বছরের গবেষণার পর রাতে ফোটে, এমন প্রজাতি খুঁজে পাওয়াটা সত্যিই ‘অসাধারণ’।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দ্বীপ নিউ ব্রিটেনে মাঠপর্যায়ে গবেষণা চালানোর সময় ডাচ গবেষক ইড ডি ভোগেল নতুন এই অর্কিডের সন্ধান পান। তবে তিনি চারাটি দেশে নিয়ে আসার পরই কেবল এটির ফুল রাতে ফোটার বিষয়টি ধরা পড়ে।
এই অর্কিডের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর ফুল ফুটে কেবল এক রাতই স্থায়ী থাকে। এর নাম দেওয়া হয়েছে বি. নকটার্নাম।
নতুন অর্কিডটি বালবোফিলাম গণের একটি প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই গণে প্রায় দুই হাজার প্রজাতি রয়েছে, যা অর্কিড-পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
গবেষকেরা বলেন, এমন অনেক প্রজাতির অর্কিড রয়েছে, যেগুলো নিশাচর কীটপতঙ্গকে আকৃষ্ট করে রাতে পরাগায়ন ঘটায়। কিন্তু রাতে ফুল ফোটে একমাত্র এই বি. নকটার্নামেরই।
সুইটম্যান বলেন, মাঠপর্যায়ের গবেষণা না করা পর্যন্ত বি. নকটার্নাম কেন রাতে ফোটে, সে রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে না। বিবিসি।
[ ... ]

সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১১

জাফরান ভেবে দইগোটা!

দইগোটা, দইগোটা ফুল, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বোটানিক্যাল গার্ডেনে জাফরান ফুল। দইগোটা, দইগোটা ফুল, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বোটানিক্যাল গার্ডেনে জাফরান ফুল।
ছবি: লেখক
অনেক সময় নার্সারিতে দেখে ভালো লাগার চারাটি কিনে ফেলা হয়, এর পরিচয় না জেনেই। বিদেশি গাছের বেলায় তো প্রায়ই এমন ঘটে। আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, প্রকৃত নামের পরিবর্তে গাছটিকে যে নামে ডাকা হয়, সেই নামের গাছের সঙ্গে প্রকৃত গাছটির কোনো ধরনের সাদৃশ্য বা সম্পর্ক থাকে না।
এমন একটি গাছের নাম দইগোটা।একে আবার লটকনও বলে অনেকে। এই রঞ্জক উদ্ভিদটি এখানে ভুল করে জাফরান ভাবা হয়। কিন্তু আকার-আকৃতিতে গাছ দুটি একেবারেই আলাদা। আদতে জাফরান বেশ দুষপ্রাপ্য এবং নামীদামি সুগন্ধি। জানামতে, দেশে এখন পর্যন্ত জাফরান চাষের কোনো রেকর্ড নেই। বর্ষজীবী এই কন্দজ গাছ সাধারণত শীতের দেশেই জন্মে। সেখানকার পরিকল্পিত বাগানগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাতে দেখেছি।
ঢাকার কোনো পার্কে বেড়াতে গেলে দইগোটার গাছ দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, চোখে পড়ার মতো তেমন আকর্ষণীয় কিছুই থাকে না প্রায় সারা বছর। শুধু চিরুনির ফলার মতো খোলসওয়ালা লালচে রঙের কতগুলো ফল চোখে পড়ে গাছে। তা-ও আবার উপাদেয় কোনো ফল নয় বলে মানুষের উৎসাহ খানিকটা কম। তবে বর্ষার শেষভাগ থেকে হেমন্ত পর্যন্ত ঈষৎ গোলাপি রঙের ফুলগুলো ফুটতে থাকে।
লটকন বা দইগোটা (Bixa orellana) সারা দেশে রঞ্জক হিসেবেই চাষ হয়। কিন্তু দেশি ফল লটকা বা লটকনের সঙ্গেও এর কোনো সম্পর্ক নেই। ধারণা করা হয়, বীজের রং দই রাঙানোর কাজে বেশি ব্যবহূত হতো বলেই এমন নামকরণ। প্রাচীনকালে মানুষ যে কয়েকটি গাছ থেকে প্রাকৃতিক রং সংগ্রহ করত, দইগোটা তার মধ্যে অন্যতম। রঞ্জক উদ্ভিদ সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে গিয়েই প্রথমে এ গাছ সম্পর্কে জানতে পারি। ঢাকায় রমনা পার্ক, বলধা গার্ডেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ কারও কারও ব্যক্তিগত সংগ্রহেও দেখা যায়।
এটি ক্রান্তীয় আমেরিকার প্রজাতি। সতেরো শতাব্দীর দিকে স্প্যানিশদের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। গাছ ছোট, ঝোপাল, চার থেকে পাঁচ মিটার উঁচু ও চিরসবুজ। পাতা বড়। ফুল ফোটে শরৎ থেকে শীতের প্রথমভাগ অবধি। ফুল একসঙ্গে অল্প কয়েকটি ফোটে। দেখতে গোলাপি, ঈষৎ বেগুনি বা সাদাটে। পাপড়ির মাঝখানে হলুদ-সোনালি রঙের একগুচ্ছ পুংকেশর থাকে। ফল লালচে বাদামি, নরম কাঁটায় ভরা। বীজ লাল শাঁসে জড়ানো। এই বীজ থেকেই পাওয়া যায় রং।
এবার জাফরান প্রসঙ্গ। এরা পেঁয়াজের মতো পাতা ও কাণ্ডবিশিষ্ট বহুবর্ষজীবী গুল্ম। মাটির নিচে মূলে কন্দ ও অনেক শিকড় থাকে। অন্য নাম কুমকুম বা কুঙ্কুম। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে এই গণের ৬০টি প্রজাতি রয়েছে। জাফরান (Crocus sativus) স্বাদে তেতো, ঝাঁজালো, পিচ্ছিল ও সুগন্ধময়। দামি রান্নায় ও সুগন্ধের জন্য পরিমাণমতো ব্যবহার করা হয়। ভালো জাফরান রক্তাভ-পীত রঙের এবং পদ্মগন্ধযুক্ত। প্রাচীনকাল থেকেই কাশ্মীরে এ ধরনের উৎকৃষ্ট মানের জাফরান জন্মে। তা ছাড়া ইরান, ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনেও এর ব্যাপক চাষ হয়।
খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও দামি প্রসাধন সামগ্রী হিসেবে জাফরান ব্যবহার্য। প্রাচীনকালে জাফরান গায়ে মাখা হতো শরীরের সৌষ্ঠব বাড়ানোর জন্য। ত্বক এর গুণে লাবণ্যময় হয়ে ওঠে। এ ছাড়া নানা রোগেও জাফরানের বহুমাত্রিক ব্যবহার লক্ষ করা যায়। চড়া মূল্যের কারণে ইদানীং জাফরানের ব্যবহার অনেক কমেছে।
এবার নিশ্চয়ই আর জাফরান ভেবে অন্য কোনো গাছ নিয়ে বাড়ি ফিরবেন না।
[ ... ]

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১১

হেমন্তের দেবকাঞ্চন

রমনা উদ্যানে হেমন্তে ফুটেছে দেবকাঞ্চন রমনা উদ্যানে হেমন্তে ফুটেছে দেবকাঞ্চন
ছবি: হাসান রাজা
কাঞ্চন ফুলের নাম করলে বসন্তের রক্তিম ফুলটির কথাই সচরাচর মনে পড়ে। তাকে নিয়ে কবিতাও আছে—ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল/ ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল’। তবে এখন রমনা উদ্যানে যে কাঞ্চন ফুটেছে, সেটি বসন্তের নয়, হেমন্তের। বর্ণেও আকাশ-পাতাল তফাত উভয়ের।
বসন্তের কাঞ্চনের নাম রক্তকাঞ্চন। নাম থেকেই অনুমান করা যায় তার রং কেমন। শীতের শেষে রক্তকাঞ্চনের পাতা ঝরে যায়। এর পাতাগুলোও চমৎকার। ডগার দিকটি দ্বিধাবিভক্ত। পাতাবিহীন বা অল্প কতক পাতাকে ছাপিয়ে শাখাগুলো ভরে ওঠে গাঢ় বেগুনি রঙের ফুলে ফুলে। ফোটেও প্রচুর।
হেমন্তের কাঞ্চন শ্বেত-শুভ্র বর্ণ। এর নাম দেবকাঞ্চন। বৈজ্ঞানিক নাম Bauhinia purpurea। উভয় প্রকারের কাঞ্চনই ভারতের নিজস্ব উদ্ভিদ। তবে হিমালয়ের পাদদেশ ও আসাম দেবকাঞ্চনের আদি নিবাস। বাংলাদেশে উভয় ধরনের কাঞ্চনেরই বংশবিস্তার বহুকাল থেকে।
দেবকাঞ্চন মাঝারি আকারের গাছ। উচ্চতা গড়পড়তা ৮-১০ মিটার। এর পাতা রক্তকাঞ্চনের চেয়ে আকারে একটু বড়, গাছটিও। ফুল ছয় থেকে আট সেন্টিমিটার চওড়া, পাপড়ির সংখ্যা পাঁচটি। ঠিক গুচ্ছ আকারে নয়, তবে একটি ডাঁটায় কয়েকটি করে ফুল ফোটে। ফুলে মিষ্টি সৌরভ। সেই সৌরভে মুগ্ধ হয়ে কীটপতঙ্গ উড়ে আসে। তাতেই পরাগায়ণ। হেমন্তের মাঝ নাগাদ শাখা ফুলে ভরে ওঠে। এ সময় পাতাও থাকে অল্প। তখন খুবই চমৎকার দেখায় গাছগুলো।
রমনা উদ্যানের দক্ষিণ পাশে ‘কিছুক্ষণ’ চত্বরের সমানে আছে দেবকাঞ্চনের সারি। এ ছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের হাইকোর্ট-সংলগ্ন প্রাচীরের পাশেও লম্বা সারি আছে দেবকাঞ্চনের। গণপূর্ত বিভাগের আরবরিকালচার বিভাগের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক নিসর্গ অনুরাগী জিয়াউল হাসান (পাখি ভাই) জানালেন, শরতের শেষ দিক থেকেই রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দেবকাঞ্চন ফুটতে শুরু করেছে। শীতের মাঝামাঝি পর্যন্ত ফুল থাকে। ফুল ফোটা শেষ হলে শিমের মতো আকৃতির ফল ধরে। ভেতরে বীজ থাকে ১২ থেকে ১৬টি। বীজ থেকে সহজেই এর চারা উৎপন্ন করা যায়।
হেমন্তের ফুলের বাহার তেমন পর্যাপ্ত নয়। শিউলীর প্রস্ফুটন অব্যাহত থাকলেও শরতের ফুল বলেই এর পরিচিতি। কুয়াশার চাদর জড়ানো হেমন্তে শিশিরভেজা দেবকাঞ্চনের শোভা চোখজুড়ানো।
[ ... ]

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১১

প্রাকৃতিক ভেষজ অনন্তমূল



অনন্তমূল হচ্ছে লতা জাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম: Hemidesmus indicus (Linn) R.Br. . ইউনানী নামঃ  ওশবা (দেশী)। অনন্তমূলের ঔষধিগুণ ব্যাপক। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাক্ষেত্রে এ উদ্ভিদটি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে যে কোন স্থানে অনন্তমূল গাছ পাওয়া যায়। বাড়ীর আঙিনা, পতিত ভূমি, ঝোঁপঝাড়ে অনন্তমূল গাছ পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক ভাবে জন্মায়।
অনন্তমূল গাছের ধরণঃ এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। কোন কিছুর উপর ভর করে কিংবা অন্য গাছকে অবলম্বন করে পেচিয়ে থাকে। মূল অনেক লম্বা হয়। এবং মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে বলে এর নাম হয়েছে অনন্তমূল। পাতা সরল, সরু ও লম্বা, দেখতে কালচে সবুজ। পাতার মাঝখানে শিরা বরাবর সাদা দাগ থাকে। পাতা ও লতার যেকোন অংশ ছিড়লেই সাদা রঙের কষ বের হয়।
অনন্তমূলে পাতা সহ গাছের সমস্ত অংশই মানব দেহের জন্য উপকারী।
খোস পাচড়াঃ অনন্ত মূল গাছের মূল ১-৩ গ্রাম পিষে প্রত্যেক দিন আহারের পর ২ বার আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ দিতে হবে।
প্রদাহ, ব্রণঃ অনন্তমূল গাছের মূল ১-৩ গ্রাম বেটে কুসুম গরম পানি মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে।
খাদ্যে অরুচিঃ অনন্তমূল গাছের পাতা সহ গাছের রস ১০-১৫ মিলি বের করে অল্প পানি দিয়ে খেতে হবে অথবা থেতো করে রাতে গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে রস সকালে খালি পেটে খেতে হবে। তবে ঔষধ সেবন করার কিছুক্ষণ পর নাস্তা খেতে হবে।
হাত-পা জ্বালাঃ গাছের সমস্ত অংশ ৩-৫ গ্রাম পিষে রস করে পানি সহ অল্প চিনি মিশিয়ে প্রত্যক দিন ২ বার খেতে হবে।
রক্ত পরিষ্কারের জন্যও কবিরাজরা অনন্তমূলের নির্যাস ব্যবহার করে থাকেন। এ ছাড়া যৌনব্যাধি নিরাময়েও অনন্তমূলের ব্যবহার রয়েছে। শিশুদের বৃক্ক প্রদাহ নিরাময়ে গ্রাম্য কবিরাজরা সাধারণত এ উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন।
[ ... ]

প্রাকৃতিক ভেষজ ঘৃতকুমারী

ঘৃতকুমারী একটি ভেষজ উদ্ভিদ। ঘৃতকুমারী পাতার রস যকৃতের জন্য উপকারী।বাংলায় নাম তরুণী ঔষধি গাছ হিসারে এর অনেক কদর। তবে বাংলার মানুষ একে ঘৃতকুমারী নামেই বেশী চিনে। এর আর একটি নাম আছে তা হলো কুমারী । এর বৈজ্ঞানিক নাম Aloe vera এটি Asphodelaceae (Aloe family) পরিবারের একটি উদ্ভিদ। অন্যান্য নামের মধ্যে Aloe vera, Medicinal aloe, Burn plant Hindi: Gheekumari উল্লেখযোগ্য।
ঘৃতকুমারী বহুজীবি ভেষজ উদ্ভিদ এবং দেখতে অনেকটা আনারস গাছের মত। এর পাতাগুলি পুরু, দুধারে করাতের মত কাঁটা এবং ভেতরে লালার মত পিচ্ছিল শাঁস থাকে। সবরকম জমিতেই ঘৃতকুমারী চাষ সম্ভব তবে দোঁয়াস ও অল্প বালি মিশ্রিত মাটিতে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় নিয়মিত জলসেচের দরকার হলেও গাছের গোড়ায় যাতে জল থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণতঃ শেকড় থেকে বেরনো ডাল বা ‘সাকার’-এর সাহায্যে এই গাছের বংশবৃদ্ধি হয়।
এই ঘৃতকুমারীতে রয়ছে ২০ রকমের খনিজ। মানবদেহের জন্য যে ২২টা এমিনো এসিড প্রয়োজন তার ৮ টি এতে বিদ্যমান। এছাড়াও ভিটামিন A, B1, B2, B6, B12, C এবং E রয়েছে।
ব্যবহার্য অংশ – পাতা, শাঁস
-ঘৃতকুমারী পাতার রস, ২-৪ চামচ করে দিনে একবার খেলে যকৃতের ক্রিয়া বৃদ্ধি করে৷
কোন জায়গা যদি আগুনে পুড়ে যায় তাহলে টাটকা পাতার শাঁস ঐ জায়গায় লাগলে চট্ জলদি আরাম পাওয়া যায়৷ ফলে ফোসকা পড়ে না এবং চামড়ার দাগ হয় না৷
-মাথা যদি সব সময় গরম থাকে তাহলে পাতার শাঁস প্রতিদিন একবার তালুতে নিয়ম করে লাগালে মাথা ঠান্ডা হয়৷
-একজিমা ঘৃতকুমারী শাঁস প্রতিদিন নিময়ম করে কয়েক সপ্তাহ লাগালে চুলকানি খেকে আরাম পাওয়া যায়৷
-কোমরে ব্যথা হলে শাঁস অল্প একটু গরম করে মালিশ করলে আরাম পাওয়া যায় ৷
-ঘৃতকুমারী শাঁস ১ – ২ চামচ ও ২ চামচ মিছরি একসঙ্গে সেবন করলে শরীরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়৷

ঘৃতকুমারী পাতার রস , শসা ও মধু
ঘৃতকুমারী পাতার রস বিষাক্ত উপাদানের প্রতি বিশেষ ভুমিকা পালন করতে পারে । এ জন্য চেহারা মেচেতার ওপর কিছু ঘৃতকুমারী পাতার রস রেখে দেয়, চেহারার ত্বকের নরম হবে এবং কিছু ক্ষতচিহ্ন দেখা যায় না । যদি আপনার মুখের মেচেতা খুব গুরুতর , তাহলে ঘৃতকুমারী পাতার রস পানির সঙ্গে মিশিয়ে খান, প্রতিদিন দু’বার ,প্রত্যেকবার ১০ মিলিলিটার ,কার্যকরভাবে মেচেতা প্রতিরোধ করা যায় ।
ঘৃতকুমারীর একটি পাতা, মধু এ একটি ছোট শসা ছোট করে মিশিয়ে করে মাস্ক করে এবং মেচেতার ওপর রেখে দেন, চামরার ফুস্কুড়িও প্রতিরোধ করতে পারে ।
উল্লেখ যে, নারীদের মুখে যদি মেচেতা থাকে, তাহলে মেক-আপ না করা ভালো । কারণ যেসব মেক-আপ ক্রিম ত্বকের সূক্ষ্মরন্ধ্রের স্বাভাবিক রূপান্তর বাধা দেবে এবং মুখের মেচেতা গুরুতর হবে ।
[ ... ]

প্রাকৃতিক ভেষজ কালিজিরা

কালোজিরার বৈজ্ঞানিক নামঃ Nigella Sativa Linn.- এটি মাঝারী জাতীয় মৌসুমী গাছ, একবার ফুল ও ফল হয় । স্ত্রী, পুরুষ দুই ধরণের ফুল হয়, রং সাধারণত হয় নীলচে সাদা (জাত বিশেষে হলুদাভ), পাঁচটি পাঁপড়ি বিশিষ্ট । কিনারায় একটা রাড়তি অংশ থাকে। তিন-কোনা আকৃতির কালো রং এর বীজ হয় । গোলাকার ফল হয় এবং প্রতিটি ফলে ২০-২৫ টি বীজ থাকে ।

আয়ুর্বেদীয় , ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। মশলা হিসাবে ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে, এটি পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান। বীজ থেকে পাওয়া তেল।
হুজুর পাক(সাঃ)বলেছেন, “একমাত্র মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের ঔষুধ এই কালিজিরা’ – আল হাদিস
জেনে নেই এই কালিজিরার কিছু গুনাবলি :
প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ খাবারের সঙ্গে ‘কালিজিরা’ গ্রহণ করে আসছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানতে পেরেছেন যে কালিজিরার সব গুণ লুকিয়ে আছে এর তেলে।
সাধারণত আমরা খাবারের সঙ্গে মসলা হিসেবে অথবা ভর্তা করে ভাতের সঙ্গে কালিজিরা খেয়ে থাকি। কিন্তু এভাবে আমাদের স্বাস্থ্য কালিজিরার আসল গুণাবলি থেকে বঞ্চিত হয়। তাই কালিজিরা নয়, বরং কালিজিরার তেল আমাদের শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারী।
কালিজিরার তেলে ১০০টিরও বেশি উপযোগী উপাদান আছে। এতে আছে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ, ৩৮ শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল ও চর্বি। কালিজিরার অন্যতম উপাদানের মধ্যে আছে নাইজেলোন, থাইমোকিনোন ও স্থায়ী তেল। এতে আরও আছে আমিষ, শর্করা ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিডসহ নানা উপাদান। পাশাপাশি কালিজিরার তেলে আছে লিনোলিক এসিড, অলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-বি২, নিয়াসিন ও ভিটামিন-সি।
কালিজিরার বৈজ্ঞানিক নাম নাইজেলা সাতিভা। নাইজেলা সাতিভাকে আরবি ভাষায় বলা হয় হাব্বাত-উল-বারাকা (আশীর্বাদপুষ্ট বীজ) এবং ইংরেজিতে বলা হয় লাভ ইন দ্য মিস্ট।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করায় কালিজিরার অবদান অসামান্য এবং সুস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জীবনে এর প্রভাব পড়ে আরও নানাভাবে। এটি দেহকে এর নিজস্ব প্রাকৃতিক নিয়মে সুস্থ করে তোলায় সহযোগিতা করে।
এই অতুলনীয় ভেষজের গুণাগুণ প্রায় কিংবদন্তির মতো এবং সম্প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোয় চিকিৎসায় এর গুরুত্ব আস্তে আস্তে পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। প্রায় তিন হাজার বছর ধরে চলে আসা গল্পগাথায় যে কালিজিরার মহৌষধি গুণের কথা বলা হয়েছে, ৫০ বছরে সেই ভাষ্য অর্জন করেছে বৈজ্ঞানিকভাবে সম্মতি ও সম্মান।
শরীরের রোগ প্রতিরোধে কালিজিরার মতো এত সহজে এত কার্যকর আর কোনো প্রাকৃতিক উপাদান আছে বলে জানা যায়নি। উন্নত দেশগুলোয় বিভিন্ন কারণ, যেমন চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে মাটি তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি হারায়, তাই শস্যের গুণাগুণ ধ্বংস হয়ে যায়, আর মানুষ শিকার হয় সেলুলার ম্যালনিউট্রেশনের। রান্নার পদ্ধতির কারণে খাবারের খাদ্যগুণ অনেকাংশেই নষ্ট হয়। পাশাপাশি আছে পরিশোধিত খাবার গ্রহণ ও দূষিত পরিবেশের প্রভাব। এসব কারণের মিলিত ফলাফল খাবারের প্রয়োজনীয় রস ও পুষ্টির অভাব।
কালিজিরার তেলের উপকার
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ইনসুলিন রোধ হ্রাস (এভাবে ডায়াবেটিস কমিয়ে রাখা), কাশি ও হাঁপানির উপশম, ্নৃতিশক্তি বৃদ্ধি, হৃজ্জনিত সমস্যার আশঙ্কা হ্রাস, চুল পড়া হ্রাস, ত্বকের সুস্বাস্থ্য, মায়ের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি, আর্থÛাইটিস ও মাংসপেশির ব্যথা কমাতে কালিজিরার তেল উপযোগী। কালিজিরার তেল গর্ভাবস্থায় গ্রহণ করতে হয় না।
 
[ ... ]

প্রাকৃতিক ভেষজ অপরাজিতা

  স্থানীয় নাম : অপরাজিতা
ভেযজ নাম /বৈজ্ঞানিক নাম :  Clitoria ternatia Linn, এটি Popilionaceae এর পরিবার ভূক্ত
ব্যবহার্য অংশ : ফুল, পাপড়ি, মূল ও গাছের লতা
রোপণের সময় : বর্ষাকাল
উত্তোলণের সময় : বছরের যে কোন সময় সংগ্রহ করা যায়।
চাষাবাদের ধরণ : গাছের ডাল বর্ষা কালে স্যাঁত স্যাঁতে মাটিতে রোপন করতে হয়, ছোট ছোট ধূসর ও কালো বর্ণের বিচি রোদে শুকিয়ে নরম মাটিতে রোপন করতে হয়।
আবাদী / অনাবাদী / বনজ : আবাদী ও অনাবাদী বনজ সব ধরণের হয়ে থাকে। তবে সাধারণত: বসত বাড়ির শোভা বর্ধনে বাড়ির আঙ্গিনায় এ গাছ রোপন করা হয়।

 
উদ্ভিদের ধরণ : এটি একটি লতা জাতীয় গাছ। অনেক লম্বা হয়ে থাকে। এর ফুল দুই রঙ্গের-সাদা এবং নীল  হয়ে থাকে।কোনো অবলম্বন পেলে এটি বেড়ে উঠে।  
ঔষধি গুণাগুণ :  অপরাজিতার ফুল, পাপড়ি, মূল ও গাছের লতায় নানান ঔষধি গুনাগুণ রয়েছে। মুর্ছা, হিস্টিরিয়া, বয়:সন্ধি কালীন উন্মাদ রোগ, গলগন্ড রোগ, ফুলা রোগ, আধকপালে ব্যথা শুষ্ক কাশি, স্বরভঙ্গ, ঘন ঘন প্রস্রাব, ইত্যাদি রোগে ঔষধি গুনাগুণ রয়েছে।
মুর্ছা বা হিস্টিরিয়া:  মূর্ছা আক্রমনের সময় এর মূল গাছ ও পাতা থেঁতে ছেঁকে ১ চা চামচ রস কোনো রকমে খাইয়ে দিলে সেরে যায়।  বয়:সন্ধি কালীন উন্মাদ রোগ: বয়:সন্ধি কালীন উন্মাদ রোগ হলে এর মূলের ছাল ৩ থেকে ৬ গ্রাম পরিমাণ নিয়ে শিলে বেটে দিনে ২ বার আতপচাল ধোয়া পানি দিয়ে ৭ দিন খেতে হয়। পানির পরিমাণ ১/৪ লিটার লাগবে।
গলগন্ড রোগ:  গলগন্ড রোগ হলে এর মূল ৫/৬ গ্রাম পরিমাণ ঘি দিয়ে শিলে পিষে অল্প মধু  মিশিয়ে সকাল বিকাল ৭ দিন খেলে ভাল হয়ে যায়।
ফুলা রোগ: পুরানো ফুলা রোগে নীল  অপরাজিতার পাতা, মূল সহ বেটে অল্প গরম করে লাগালে ফুলা সেরে যায়। ফুলা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সকালে লাগিয়ে যতক্ষণ রাখা যায় রাখতে হবে।
ঘন ঘন প্রস্রাব:  শিশু অথবা বয়ষ্ক যারা ঘন ঘন প্রস্রাব করে এই ক্ষেত্রে সাদা বা নীল অপরাজিতা গাছের মূল  সহ রস করে এক চা চামচ প্রত্যেকদিন ২ বার একটু সামান্য দুধ মিশিয়ে সকাল বিকাল এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যায়।
স্বরভঙ্গ :  সমস্ত লতা পাতা দশ গ্রাম পরিমাণ থেঁতলে ৪/৫ কাপ পানিতে সিদ্ধ  করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে দিনে ৩/৪ বার ১৫ মিনিট গারগেল করলে সেরে যায়। ৪/৫ দিন করতে হবে।  শুষ্ক কাশি : অপরাজিতা মূলের রস ১ চা চামচ আধা কাপ  অল্প গরম পানিতে মিশিয়ে নিতে হবে। সেই পানি ১০/১৫ মিনিট মুখেপুরে রেখে দিনে ৩বার ৭ দিন গারগেল করতে হবে। তবে খাওয়া যাবেনা।
আধকপালে ব্যথা :  এ রোগে যখন ব্যথা হয় তখন এক টুকরা মূল ও গাছ থেঁতলে তার রস হাতের তালুতে কয়ফোঁটা নিয়ে নাক দিয়ে টেনে দিনে দু’তিন বার নস্যি নিলে সেরে
[ ... ]

প্রাকৃতিক ভেষজ পুদিনা

উদ্ভিদের নাম : পুদিনা Pudina স্থানীয় নাম : পুদিনা
ভেষজ নাম : Mentha spicata
ব্যবহার্য অংশ : মূল পাতা কান্ড সহ সমগ্র গাছ
রোপনের সময় : বছরের যে কোনো সময়ে রোপন করা যায়।
আবাদী/অনাবাদী/বনজ : আবাদি আনাবাদি ও বনজ সব ধরনের হয়ে থাকে।
পরিচিতি: ডাল থেকে এ গাছ জন্মে। ছোট গুল্ম জাতীয় গাছ। পাতা ডিম্বাকৃতি, সুগন্ধী যুক্ত। সবুজ।
ষধি গুনাগুন :পুদিনা রুচিজনক অগ্নিবর্ধক, মুখের জড়তা নাশক, কফ ও বাত নষ্টকরে, বলকর, বমন ও অরুচিনাশক, জীবানু নাশক,জীর্ণতার সহায়ক, বায়ুবিকারে ঊপশামক, প্রস্রাব কারক, বমন নিবারক, অরুচি, হিক্কা, জ্বর ও জরান্তিক দুর্বলতা, ব্রঙ্কাইটিস, বাত ইত্যাদিতে ব্যবহার্য্য।এটিকে দিয়ে সুস্বাদু খাদ্য ও পানীয়  প্রস্তুত করা হয়। পাতার সঙ্গে অম্ল মিশিয়ে চাটনী উপাদেয় খাদ্য। এটি অরুচি নষ্ট করে ক্ষুধা বাড়ায়। মুখে দুর্গন্ধ হলে পাতার রস জলে মিশয়ে কুলি করলে কাজ হয়।
অরুচিতে: রোগে ভোগার পর, পেটে বায়ু জমে ও কোষ্ঠ বদ্ধতায় অরুচি আসে। একই রকম খাদ্য দীর্ঘদিন খেলে অরুচি আসে। এ সব ক্ষেত্রে পুদিনার সরবত ( পুদিনার রস ২ চা চামচ, সামান্য লবন, কাগজী লেবুর রস ৮/১০ ফোঁটা, হাল্কা গরম পানি পোয়া খানিক একত্রে মিশিয়ে ) সকাল বিকাল দিনে দুই বার ৫/৭ দিন খেলে অরুচি চলে যায়। পুদিনা পাতা বেটে পানিতে গুলে শরবত করা যায়। সে ক্ষেত্রে কাঁচা পাতা ৮/১০ গ্রাম নিতে হবে। পেট ফাঁপায়: সহজ কথায় পেটে বায়ু জমে যাওয়া। এ অবস্থা সৃষ্টি হলে নানান রোগ হোতে পারে। বদ হজমের ফলে পেটে বায়ু জমে এবং পেট ফাঁপে। এ ক্ষেত্রে পুদিনার শরবত উপরিউক্ত পদ্ধতিতে সারাদিন ২-৩ বার করে কয়দিন খেলে পেটে বায়ু জমা বন্ধ হবে। খাদ্যে রুচিও ফিরে আসবে।
বমিতে: পিত্তে শ্লেষ্মার  জ্বর, অম্লপিত্ত, আমাশা, অজীর্ণ, উদরশূল, প্রভৃতিতে বমি হতে পারে। আবার রোদে ঘোরাফিরা করে ঠাণ্ডা পানি খেলে, খালি পেটে থেকে পরিশ্রম করলে বমি হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে পুদিনার শরবতের সাথে এক চা চামুচ তেঁতুল মাড় ও চিনি মিশিয়ে ২/৩ বার করে কয়দিন খেতে হবে।
মুত্রাল্পতায়: অনেক রোগে প্রস্রাব কম হয়। কিন্তু যে ক্ষেত্রে ঠান্ডা গরমের ফলে সাময়িক ভাবে অল্প অল্প প্রস্রাব হতে থাকে কোনো কোনো সময় দাহ হতে থাকে, সে  ক্ষেত্রে পুদিনা পাতা ৮/১০ গ্রাম বেটে তাতে সামান্য লবন ও কাগজী লেবুর রস ঠান্ডা পানি মিশিয়ে শরবত করে দিনে ২/৩ বার খেতে হবে। অন্য কোনো রোগে মূত্রাল্পতা হলে সেক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করা যাবে কিনা সেটা নির্ভর করবে রোগের ধরনের ঊপর এবং চিকিৎসকের বিচার ধারার উপর। শিশুদের অতিসারে: পাতলা দাস্ত, সেই সাথে পেট মোচড় দিয়ে ব্যথা, কোন কোন ক্ষেত্রে অল্প আম –সংযুক্ত দাস্ত, সেই সাথে পেট ফাঁপা, হিক্কা বমি বমি ভাব, প্রস্রাবও সরলি হচ্ছেনা, শিশু কিছুই খেতে চাচ্ছেনা। এক্ষেত্রে পুদিনা পাতার রস্‌ ৮/১০  ফোঁটা আল্প একটু চিনি ও লবন সহযোগে এক ঘন্টা অন্তর কয়েকবার খাওয়াতে হবে। কখন কি ভাবে কতবার খাওয়াতে হবে সেটা নির্ভর করবে রোগীর সুস্থতার ক্রমের দিকে লক্ষ রেখে। বয়স আনুপাতে মাত্রাটা ঠিক করে নিতে হবে।
পুদিনার চাঃ- বেশী চা খেলে শরীর খারাপ হতে পারে। ঠিক চাএর মত করে চায়ের পাতার বদলে পুদিনা পাতা ও সেই সাথে দুধ চিনি গোল মরিচ ও মৌরি দিয়ে এই চা তৈরী করতে হবে। এই চা খেতে সুস্বাদু এবং খেলে তৃপ্তি হয়।
[ ... ]

প্রাকৃতিক ভেষজ পেঁপে

উদ্ভিদের নাম : পেঁপে গাছ
স্থানীয় নাম : পেঁপেভেজষ
নাম : Carica papaya Linn
ব্যবহার্য অংশ: আঠা, ফল ও পাতা
রোপনের সময় : নার্সারীতে চারা জন্মানোর পর ৭-১০ সেমি উঁচু হলে তা লাগানোর উপযুক্ত হয়। এটি প্রায় সারা বছরই জন্মে।
উত্তোলনের সময় : এটিকে বারোমাসি উদ্ভিদ ও বলা যায়। সারা বছরই পাওয়া যায়।
আবাদী/অনাবাদী/বনজ: এটি বসতবাড়ী এবং বাগানে চাষ করা হয়। চাষের ধরণ: পেঁপে সব ধরনের মাটিতে জন্মে থাকে । বেলে মাটিতে বেশি ভালো জন্মে।এটি উঁচু স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় ভালো জন্মে। এটি চাষের জন্য প্রথমে বীজ তলায় বীজ রোপন করতে হয়। পরবর্তীতে চারা গজালে বীজ তলা থেকে তুলে অন্যত্র লাগানো হয়। এটি রোপনের ক্ষেত্রে তেমন দূরত্বের প্রয়োজন হয়না ।
উদ্ভিদের ধরণ: পেঁপে বহু বর্ষজীবি নয়। এটি সবুজ কান্ড বিশিষ্ট মধ্যমাকারের সোজা গাছ।
পরিচিতি: এ গাছ মধ্যমাকারের সোজা গাছ। প্রায় ২০-২৫ ফুট উঁচু হয়। শাখা-প্রশাখা হয় না। তবে গাছ পুরানো হলে দু একটি শাখা বের হয়। মূল কান্ডের চারপাশে পাতা বের হয় এবং পাকলে ঝরে যায়। এটি আকারে বেশ বড় হয়। এর কিনারা ৭ ভাগে বিভক্ত। নলের মত বোঁটাটি ফাঁপা, এটি ৩ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতার গোড়া ও কান্ডের যোগস্থলে ফুল বের হয়। সব ফুল থেকে আবার ফল হয়না। স্ত্রী জাতীয় ফুল থেকে ফল হয়। এর আকার বেশ বড়। তবে এর গা ঢেউ খেলানো হয়। কাঁচা অবস্থায় এর রং সবুজ পাকলে কিছুটা অংশ হলুদ হয়। এতে দুধের মত আঠা আছে। এই ফলের মধ্যে ফাঁপা এবং অনেকগুলি বিচি থাকে। ফল কচি থাকা অবস্থায় বিচির রং সাদা এবং পাকলে ধুসর বা কালো হয়ে থাকে। প্রায় সারা বছরই ফুল ও ফল দেখা যায়।
ঔষধি গুনাগুন : কাঁচা পেঁপের রস থেকে পেপসিন নামক জারক রস পাওয়া যায়। যা অজীর্ণরোগে বিশেষ ফলদায়াক। পেঁপের আঠা মুত্রনালীর ক্ষতে ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। ডিপথেরিয়া, স্পলীহা ও যকৃত বৃদ্ধিতে পেঁপের রসের ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। পেঁপের আঠা বাহ্যিক প্রয়োগও হয়। শুষ্ক দাদ ও একজিমাতে এর আঠা ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া সবজি হিসাবে রান্না করে খেলে অর্শরোগে হিতকর এবং এটি স্তন বৃদ্ধি কারক হিসাবে প্রসিদ্ধ আছে। পেঁপের বীজ ক্রিমিনাশক রজঃনিসারক ও তৃষ্ণা নিবারক হিসাবে ব্যবহ্রত হয়। কাঁচা পেঁপের আঠা ও বীজ ক্রিমিনাশক রজঃনিসারক ও প্লীহা-যকৃতের হিতকর। পাকা পেঁপে কোষ্ঠ পরিষ্কারক, বায়ুনাশক ও মূত্রকারক।
১। রক্ত আমাশয়: প্রত্যহ সকালে কাঁচা পেঁপের আঠা ৫/৭ ফোঁটা ৫/৬ টি বাতাসার সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। ২/৩ দিন খাওয়ার পর রক্তপড়া কমতে থাকবে।
২। ক্রিমি: যে কোন প্রকারের ক্রিমি হলে, পেঁপের আঠা ১৫ ফোঁটা ও মধু ১চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। এরপর আধা ঘন্টা পরে উঞ্চ পানি আধ কাপ খেয়ে তারপরে ১ চামচ কলিচুনের পানি খেতে হয়। এভাবে ২ দিন খেলে ক্রিমির উপদ্রব কমে যাবে।
৩। আমাশয়: আমাশয় ও পেটে যন্ত্রনা থাকলে কাঁচা পেঁপের আঠা ৩০ ফোঁটা ও ১ চামচ চুনের পানি মিশিয়ে তাতে একটু দুধ দিয়ে খেতে হবে। একবার খেলেই পেটের যন্ত্রনা কমে যাবে এবং আমাশয় কমে যাবে।
৪। যকৃত বৃদ্ধিতে: এই অবস্থা হলে ৩০ ফোঁটা পেঁপের আঠাতে এক চামচ চিনি মিশিয়ে এক কাপ পানিতে ভালো করে নেড়ে মিশ্রণটি সারাদিনে ৩বার খেতে হবে। ৪/৫ দিনের পর থেকে যকৃতের বৃদ্ধিটা কমতে থাকবে, তবে ৫/৬ দিন খাওয়ার পর সপ্তাহে ২ দিন খাওয়াই ভালো। এভাবে ১ মাস খেলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
৫। ক্ষুধা ও হজম শক্তিতে: প্রত্যেকদিন সকালে ২/৩ ফোঁটা পেঁপের আঠা পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা ক্ষুধাও বেড়ে যাবে এবং হজমও ঠিকভাবে হবে।
৬। পেট ফাঁপায়: কয়েক টুকরো পাকা পেঁপের শাঁষ, আর সামান্য লবন এবং একটু গোলমরিচের গুড়ো একসংগে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা পেট ফাঁপার উপশম হয়।
৭। প্রবল জ্বরে: দেড় চামচ পেঁপে পাতার রস এক কাপ পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা জ্বরের বেগ, বমি, মাথার যন্ত্রনা, শরীরে দাহ কমে যাবে। জ্বর কমে গেলে আর খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
৮। মাসিক ঋতু বন্ধে: যাদের মাসিক ঋতু বন্ধ হওয়ার সময় হয়নি অথচ বন্ধ হয়ে গিয়েছে অথবা যেটুকু হয় তা না হওয়ারই মত, সেক্ষেত্রে ৫/৬ টি পাকা পেঁপের বিচি গুড়া করে রোজ সকালে ও বিকালে দু’বার পানিসহ খেতে হবে। এর ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই মাসিক স্রাব ঠিক হয়ে যাবে, তবে অন্য কোন কারনে এটা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৯। দাদে: সে যে কোনো প্রকারের হোক না কেন, কাঁচা পেঁপের/গাছের আঠা ঐ দাদে লাগিয়ে দিতে হবে, একদিন লাগিয়ে পরের দিন লাগাতে হবে না, এরপরের দিন আবার লাগাতে হবে, এইভাবে ৩/৪ দিন লাগালে দাদ মিলিয়ে যাবে।
১০। একজিমায়: যে একজিমা শুকনা অথবা রস গড়ায় না, সেখানে ১ দিন অথবা ২ দিন অন্তর পেঁপের আঠা লাগালে ওটার চামড়া উঠতে উঠতে পাতলা হয়ে যায়।
১১। উকুন হলে: ১ চামচ পেঁপের আঠা, তার সঙ্গে ৭/৮ চামচ পানি মিশিয়ে ফেটিয়ে নিতে হয়। তারপর ওই পানি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর মাথা ধুয়ে ফেলতে হয়। এইভাবে একদিন অন্তর আর একদিন বা ২ দিন লাগালে উকুন মরে যায়।
[ ... ]

বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১১

প্রাকৃতিক ভেষজ জবা


উদ্ভিদের নাম : জবা
স্থানীয় নাম : জবা
ভেযজ নাম /বৈজ্ঞানিক নাম : Hibiscus rosa-Sinensis Linn
(হিবিসকাস রোজা-সিনেনসিস লিন)
ব্যবহার্য অংশ : ফুল, পাপড়ি ও গাছের ছাল
রোপণের সময় : বর্ষাকাল
 
 
উত্তোলণের সময় : বছরের যে কোন সময় সংগ্রহ করা যায়।
চাষাবাদের ধরণ : গাছের ডাল বর্ষা কালে স্যাঁত স্যাঁতে মাটিতে রোপন করতে হয়।
আবাদী/ অনাবাদী/ বনজ : আবাদী ও অনাবাদী বনজ সব ধরনের হয়ে থাক। 
তবে বসত বাড়ির শোভা বর্ধনে  গাছ রোপন করা হয়।
 
 
 
উদ্ভিদের ধরণ : এটি একটি ঝোপ জাতীয় গাছ। সাধারণত: সাত আট ফুট উচ্চতায় হয়ে থাকে। 
এর ফুল নানা রঙ্গের হয়ে থাকে । জবা ফুল ঠোঙ্গা আকৃতি, পঞ্চমুখি ও থোকা আকারের হয়ে থাকে।
ঔষধি গুণাগুণ : জবা ফুলে নানা ঔষধি গুনাগুণ রয়েছে। বমনের প্রয়োজনে, অনিয়মিত মাসিকের স্রাব, 
মাসিক ঋতুর অতিস্রাবে, চোখ উঠা, মাথায় টাক পোকা, হাতের তালুতে চামড়া উঠা ইত্যাদি রোগে 
ঔষধি গুনাগুণ রয়েছে।
 
ব্যবহার :
১. বমি করতে চাইলে: হঠাৎ কোন কুখাদ্য খাওয়া হয়ে গেলে, যেটা খেতে অভ্যস্থ নয়, যাকে বলা হয় অসাত্ম্য দ্রব্য, 
যেমন অজান্তে মাছি, চুল অথবা এই ধরনের কোন জিনিস পেটে গিয়েছে, এর পরিণতিতে বমির উদ্রেগ হয়, অথচ 
বমি হচ্ছে না; এক্ষেত্রে ৪/৫ টি জবা ফুল নিয়ে বোঁটার সঙ্গে যে সবুজ ক্যালিকাস অংশ থাকে, এই অংশ টাকে 
বাদ দিয়ে ফুল অংশটাকে পানি ও চিনি পরিমাণমত দিয়ে চটকে সরবত করে দিনে ২/১ বার খেলে বমি হয়ে 
পেট থেকে ওগুলি সব বেরিয়ে যাবে।


২. ঘন ঘন প্রস্রাব : যারা প্রচুর পরিমাণে পানি পান করে আবার ঘন ঘন প্রস্রাব করে অথচ ডায়াবেটিস রোগী নয়, 
এই ক্ষেত্রে জবা গাছের ছালের রস এক কাপ পানির সাথে পরিমাণমত চিনিসহ মিশিয়ে ৭/৮ দিন খেলে উপকার পাওয়া যায়।
 
 
৫. টাক পোকা রোগ : চুল স্বাভাবিক আছে অথচ ফাঙ্গাসে কিছু জায়গা চুল উঠে টাক হয়ে গেছে এ অবস্থায় 
জবাফুল বেটে ওখানে লাগালে কিছু দিনের মধ্যে চুল উঠে যাবে। এক /দুইটা ফুল বেটে ৭/৮ দিন যে কোনো সময়
লাগাতে হবে এবং দুই/এক ঘণ্টা রাখতে হবে অথবা যতক্ষণ সম্ভব রাখতে হবে।
৬. চোখ উঠা : চোখের কোণে ক্ষত হয়ে পুঁজ পড়ছে। সে ক্ষেত্রে জবা ফুল বেটে চোখের ভিতরটা বাদ দিয়ে 
চোখের উপর ও নিচের পাতায় গোল করে লাগিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায়। দিনের যে কোনো সময় এক /
দুইটা ফুল বেটে ৭/৮ দিন লাগাতে হবে এবং এক ঘন্টা রাখতে হবে।
 
 ৭. হাতের তালুতে চামড়া উঠা : শীত কালে হাতের তালুতে চামড়া উঠে খসখসে হয়ে গেলে জবা ফুল 
তালুতে মাখলে খুব উপকার পাওয়া যায়। দিনে দুই তিন বার এক /দুইটা ফুল হাতের মধ্যেই ডলে ডলে লাগাতে হবে ।
লাগিয়ে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করা যাবে। যতক্ষণ সম্ভব রাখতে হব

[ ... ]

প্রাকৃতিক ভেষজ তেলাকুচা

উদ্ভিদের নাম: তেলাকুচা
স্থানীয় নাম: তেলা তেলাকচু, তেলাহচি, তেলাচোরা কেলাকচু, তেলাকুচা বিম্বী ইত্যাদি।
বোটানিক্যল নাম: Coccinia Cordifolia Cogn
ফ্যামিলি নাম: Cucurbitaceae
ভেষজ নাম: Coccinia
ব্যবহার্য অংশ: পাতা, লতা, মূল ও ফল।
রোপনের সময়: তেলাকুচা দেশের প্রায় সব অঞ্চলে বসত বাড়ির আশে পাশে, রাস্তার পাশে বন-জঙ্গলে জন্মায় এবং বংশ বিস্তার করে। সাধারণত চৈত্র- বৈশাখ মাসে তেলাকুচা রোপন করতে হয়।পুরাতন মূল শুকিয়ে যায় না বলে গ্রীস্মকালে মৌসুমি বৃষ্টি হলে নতুন করে পাতা গজায় এবং কয়েক বছর ধরে পুরানো মূল থেকে গাছ হয়ে থাকে।
 
উত্তোলণের সময়: শীতকাল ছাড়া সব মৌসুমেই তেলাকুচার ফুল ও ফল হয়ে থাকে। ফল ধরার ৪ মাস পর পাকে এবং পাকলে টুকটুকে লাল হয়।আবাদী/অনাবাদী/বনজ: এটি বসতবাড়ির আশে পাশে, জঙ্গলে, রাস্তার পাশে জন্মে।


চাষাবাদের ধরণ: শিকড় সহ লতা এনে রোপন করলে অতি সহজেই তেলাকুচা গাছ জন্মে। এর বীজ থেকেও চারা তৈরি করা যায়। দুই থেকে আড়াই ফুট দুরত্বে বাণিজ্যিক চাষাবাদ করা যায়। বেলে বা দোঁআশ মাটিতে ভাল চাষ হয়। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে বৃষ্টি হলে তেলাকুচার বীজ বপন করতে হয়। বীজ তলার মাটি আগে ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। বীজ বপনের ১০-১৫ দিনের মধ্যে চারা গজিয়ে থাকে।
উদ্ভিদের ধরণ: তেলাকুচা একটি লতানো উদ্ভিদ। এটি গাঢ় সবুজ রংয়ের নরম পাতা ও কান্ডবিশিস্ট একটি লতা জাতীয় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। লতার কান্ড থেকে আকর্ষীর সাহায্যে অন্য গাছকে জড়িয়ে উপরে উঠে। পাঁচকোনা আকারের পাতা গজায়, পাতা ও লতার রং সবুজ।
ঔষধি গুণাগুণ: ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস হলে তেলাকুচার কান্ড সমেত পাতা ছেঁচে রস তৈরি করে আধাকাপ পরিমাণ প্রতিদিন সকাল ও বিকালে খেতে হবে। তেলাকুচার পাতা রান্না করে খেলেও ডায়াবেটিস রোগে উপকার হয়।
 
 
জন্ডিস: জন্ডিস হলে তেলাকুচার মূল ছেঁচে রস তৈরি করে প্রতিদিন সকালে আধাকাপ পরিমাণ খেতে হবে।
পা ফোলা রোগে: গাড়িতে ভ্রমণের সময় বা অনেকক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসলে পা ফুলে যায় একে শোথ রোগ বলা হয়। তেলাকুচার মূল ও পাতা ছেঁচে এর রস ৩-৪ চা চামচ প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে।
শ্বাসকষ্ট: বুকে সর্দি বা কাশি বসে যাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট (হাপানি রোগ নয়) হলে তেলাকুচার মূল ও পাতার রস হালকা গরম করে ৩-৪ চা চামচ পরিমাণ ৩থেকে সাত দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে।
কাশি: শ্লেস্মাকাশি হলে শ্লেস্মা তরল করতে এবং কাশি উপশমে ৩-৪ চা চামচ তেলাকুচার মূলও পাতার রস হালকা গরম করে আধা চা-চামচ মধু মিশিয়ে ৩ থেকে ৭ দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে।
শ্লেম্মাজ্বর: শ্লেষ্মাজ্বর হলে ৩-৪ চা চামচ তেলাকুচার মূল ও পাতার রস হালকা গরম করে ২-৩ দিন সকাল- বিকাল খেতে হবে। এ ক্ষেত্রে তেলাকচুর পাতার পাটায় বেটে রস করতে হবে।
 
 
 
স্তনে দুধ স্বল্পতা: সন্তান প্রসবের পর অনেকের স্তনে দুধ আসে না বা শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এ অবস্থা দেখা দিলে ১টা করে তেলাকুচা ফলের রস হালকা গরম করে মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে হবে। তেলাকচুর ফল একটু তিতে হওয়ায় পরিমাণমত সকাল-বিকাল ১ সপ্তাহ খেতে হবে। মা হলেও স্তনে দুধ নেই। এদিকে শরীর ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে কাঁচা সবুজ তেলাকুচার ফলের রস একটু গরম করে ছেঁকে তা থেকে এক চা চামচ রস নিয়ে ২/৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে সকালে ও বিকালে ২ বার খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যে স্তনে দুধ আসবে। ফোঁড়া ও
ব্রণ: ফোড়া বা ব্রণ হলে তেলাকুচা পাতার রস বা পাতা ছেঁচে ফোঁড়া ও ব্রণে প্রতিদিন সকাল-বিকাল ব্যবহার করতে হবে।
আমাশয়: প্রায়ই আমাশয় হতে থাকলে তেলাকুচার মূল ও পাতার রস ৩-৪ চা চামচ ৩ থেকে ৭ দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে।
অরুচিতে: সর্দিতে মুখে অরুচি হলে তেলাকুচার পাতা একটু সিদ্ধ করে পানিটা ফেলে দিয়ে ঘি দিয়ে শাকের মত রান্না করতে হবে। খেতে বসে প্রথমেই সেই শাক খেলে খাওয়াতে রুচি আসবে। উৎস
[ ... ]

তুলসী সম্পর্কে নানা কথা

বৈজ্ঞানিক নাম : Ocimum     sanctum linn
ইংরেজি নাম : Holy Bsil
পরিবার : Labiatae
অন্যান্য প্রচলিত নাম: সুরসা, তুলসী (সংস্কৃত), তুলসী (বাংলা), তুলসী (তামিল), তুলসী (হিন্দি), উলসী বাদরুজ (আরবি)।
বণর্না:
তুলসী বড় বীরুত বা ছোট গুল্ম জাতীয় সুগন্ধযুক্ত উদ্ভিদ। এটি ২-৪ ফুট উঁচু হয়ে থাকে। কান্ড শক্ত, কখনও চার কোণাকার। পাতা সরল, ডিম্বাকৃতি, ছোট রোমযুক্ত, কিনার সাধারণত খাঁজ কাটা। বীজ চেপ্টা, মসৃন ও ফিকে লাল। শীতকালে ফুল ও ফল হয়।
সাধারণ গুন:
সুগন্ধিযুক্ত, কটু তিক্তরস, রুচিকর। এটি সর্দি, কাশি, কৃমি ও বায়ুনাশক এবং মুত্রকর, হজমকারক ও এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে বিশেষ করে কফের প্রাধান্যে যে সব রোগ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে তুলসী বেশ ফলদায়ক।
ব্যবহার্য অংশ: পাতা ও শিকড়।
উত্তোলণের সময়: সারা বছর এ গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করা যায়। শীত কালের শেষে গাছে ফুল আসে। বসন্তে ফল পেকে যায়। বসন্তের শেষে বৈশাখে বীজ সংগ্রহ করা যায়
আবাদী/অনাবাদী/বন জ: আবাদী অনাবাদী ও বনজ সব ধরনের হয়ে থাকে।
চাষাবাদের ধরণ: পানি জমেনা এমন  উঁচু ভেজা মাটিতে কিছুটা ছায়া যুক্ত যায়গায় এ গাছ ভাল জন্মে। বীজতলা ভাল ভাবে চাষ করে শুকনো বীজ রোপন করতে হয়। কিছুদিনের ভিতর চারা গজিয়ে উঠে।
ব্যবহার: আমাদের দেশে ছেলেমেয়েদের সর্দি-কাশিতে তুলসী পাতার রস  ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়। এসব ক্ষেত্রে কয়েকটি তাজা তুলসী পাতার রসের সাথে একটু আদার রস ও মধুসহ খাওয়ানো হয়। বাচ্চাদের সর্দি-কাশিতে এটি বিশেষ ফলপ্রদ। তাজা তুলসী পাতার রস মধু, আদা ও পিঁয়াজের রসের সাথে এক সাথে পান করলে সর্দি বের হয়ে যায় এবং হাপানিতে আরাম হয়।
ঔষধি গুণাগুণ:-
পেট কামড়ানো, কাশি: তুলসী পাতার রসে মধু মিশিয়ে খাওয়ালে বাচ্চাদের পেট কামড়ানো, কাশি ও লিভার দোষে উপকার পাওয়া যায়।
ঘামাচি ও চুলকানি: তুলসী পাতা ও দুর্বার ডগা বেটে গায়ে মাখলে ঘামাচি ও চুলকানি ভাল হয়।
দাদ ও অন্যান্য চর্মরোগে: স্থানীয়ভাবে তুলসী পাতার রস দাদ ও অন্যান্য চর্মরোগে ব্যবহার করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। পাতার রস ফোঁটা ফোঁটা করে কানে দিলে কানের ব্যথা সেরে যায়।
ম্যালেরিয়া: পাতা ও শিকড়ের ক্বাথ ম্যালেরিয়া জ্বরের জন্য বেশ উপকারী। ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে প্রতিদিন সকালে গোল মরিচের সাথে তুলসী পাতার রস খেতে দেয়া হয়। যতদিন সম্ভব খাওয়া যায়।
বসন্ত, হাম: বসন্ত, হাম প্রভৃতির পুঁজ ঠিকমত  বের না হলে তুলসী পাতার রস খেলে তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসবে।
ক্রিমি: তুলসী পাতার রসের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ক্রিমি রোগে বেশ উপকার পাওয়া যায়। শুষ্ক তুলসী পাতার ক্বাথ সর্দি, স্বরভঙ্গ, বক্ষপ্রদাহ, উদারাময় প্রভৃতি রোগ নিরাময় করে থাকে।
পেট ব্যথা: অজীর্ণজনিত পেট ব্যথায় তুলসী পাতার বেশ উপকার সাধন করে থাকে। এটি হজমকারক। প্রতিদিন সকালে ১৮০ গ্রাম পরিমান তুলসী পাতার রস খেলে পুরাতন জ্বর, রক্তক্ষয়, আমাশয়, রক্ত অর্শ এবং অজীর্ণ রোগ সেরে যায়।
বাত ব্যথা: বাত ব্যথায় আক্রান্ত স্থানে তুলসী পাতার রসে ন্যাকড়া ভিজিয়ে পট্টি দিলে ব্যথা সেরে যায়।
কীট-পতঙ্গ কামড়ালে: বোলতা, ভীমরুল, বিছা প্রভৃতি বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ কামড়ালে ঐ স্থানে তুলসী পাতার রস গরম করে লাগালে জ্বালা-যন্ত্রণা কম হয়।
সর্দি: যারা সহজেই সর্দিতে আক্রান্ত হয় (বিশেষ করে শিশুদের) তারা কিছুদিন ৫ ফোঁটা মধুর সাথে ১০ ফোঁটা রস(ছবি) খেলে সর্দি প্রবণতা দূর হয়।
তুলসী মূল শুক্র গাঢ়কারক এবং বাজীকারক। তুলসী পাতার ক্বাথ, এলাচ গুঁড়া এবং এক তোলা পরিমাণ মিছরী পান করলে ধাতুপুষ্টি সাধিত হয় যতদিন সম্ভব খাওয়া যায়।  এটি অত্যন্ত ইন্দ্রিয় উত্তেজক। প্রতিদিন এক ইঞ্চি পরিমাণ তুলসী গাছের শিকড় পানের সাথে খেলে যৌনদূর্বলতা রোগ সেরে যায়।
কোন কারনে রক্ত দূষিত হলে কাল তুলসিপাতার রস কিছুদিন খেলে উপকার পাওয়া যায়।
শ্লেষ্মার জন্য নাক বন্ধ হয়ে কোনো গন্ধ পাওয়া না গেলে সে সময় শুষ্ক পাতা চূর্ণের নস্যি নিলে সেরে যায়।
পাতাচূর্ণ দুই আঙ্গুলের চিমটি দিয়ে ধরে নাক দিয়ে টানতে হয়, সেটাই নস্যি।
তুলসী পাতা দিয়ে চায়ের মত করে খেলে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা যায়। তুলসী চা হিসাবে এটি বেশ জনপ্রিয়।
তুলসিপাতার রসে লবন মিশিয়ে দাদে লাগালে উপশম হয়।
তুলসীর বীজ
প্রস্রাবজনিত জ্বালা: তুলসীর বীজ পানিতে ভিজালে পিচ্ছিল হয়। এই পানিতে চিনি মিশিয়ে শরবতের মত করে খেলে প্রস্রাবজনিত জ্বালা যন্ত্রনায় বিশেষ উপকার হয়।
কালো দাগ: মুখে বসন্তের কাল দাগে তুলসীর রস মাখলে ঐ দাগ মিলিয়ে যায়। হামের পর যে সব শিশুর শরীরে কালো দাগ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে তুলসী পা্তার রস মাখলে গায়ে স্বাভাবিক রং ফিরে আসে।
[ ... ]

মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১১

এলাচ নামক পুষ্টিকর মসলার ভেষজ গুন


শারিরিক পুষ্টিগুণে অনন্য বিভিন্ন মসলার একটি এলাচ । আদিবাস দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় । রান্নার মুখরোচক উপাদেয় একটি মসলা । এলাচ শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না পানের স্বাদও বাড়ায়। এলাচ সাধারণ দু রকমের হয়। বড় এলাচ ও ছোট এলাচ। বড় আর ছোট দুই প্রকারের এলাচই শারীরিক নানা সমস্যা দূর করে।

গাছের বৈশিষ্ট্য: এলাচ গাছের গোড়া থেকে পৃথক পুষ্পমঞ্জরী সৃষ্টি হয়ে আনুভূমিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। কুড়ির মতো হয়ে ছোট ছোট অনেক ফুল ফোটে।
পাপড়ী সাদা অথবা কিছুটা হলুদ রঙের। পাপড়ীর বাইরের দিক কুঞ্চিত, মাঝখানে পিংক বা হলুদ রঙের মার্জিন রকমের একটি রেখা দেখা যায়। সাধারণ আদা অথবা হলুদ গাছের মতই দেখতে কিন্তু এদের উচ্চতা বেশী, প্রায় ১২ ফুট। পাতা গুলো মসৃণ ও উপরের পিঠ গাঢ় সবুজ কিন্তু নীচের পিঠ হালকা সবুজ।
ফলগুলো মসৃণ, পাতলা আবরণ বিশিষ্ট্য। প্রতিটি ফলে ১৫-২০টি লালচে-বাদামী সুগন্ধী বীজ থাকে।

নামকরণ:
বাংলা : এলাচ/এলাচী
অন্যান্য ভাষায় এর নাম: Cardamom, Malabar cardamom, Ceylon cardamom • Hindi: इलाएची Elaichi • Marathi: इलाची Elachi • Tamil: Elam Ancha • Malayalam: Elatarri • Telugu: Elaki • Kannada: Elakki • Urdu: Elaichi الاچی • Sanskrit: Trutih
বৈজ্ঞানিক নাম: Elettaria cardamomum
গোত্র: Zingiberaceae (Ginger family)

ফযীলত:
১. এতে ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম।
২. প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়।
৩. ভোলাটাইল ওয়েল রয়েছে প্রায় ১০%
৪. এলাচ খাবারের আগ্রহ বাড়ায়।
৫. হজমশক্তি বাড়ায়।
৬. শ্বাসকষ্ট ও হৃৎরোগের জন্যও অত্যন্ত উপকারি।
৭. কাশি বন্ধ করতে এলাচ খুবই দরকারী উপাদেয়।
৮. পেটের ফাঁপা দূর করে
৯. চোখের জ্বালা পোড়ায় এলাচ দানার সঙ্গে সমপরিমাণ চিনি মিশিয়ে তা পিষে ওই গুঁড়া খেয়ে ফেলুন।
১০. প্রস্রাবে সমস্যা হলে এলাচের গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন।
১১. অনবরত বমি হতে থাকলে এলাচের ছোবড়া পুড়িয়ে ওই ছাই মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে বমি বন্ধ হওয়া নিশ্চিত।
১২. কোষ্ঠকাঠিন্য ও জ্বর কমাতে এলাচ, বেল ও দুধ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ভালো করে গরম করে নিতে হবে। দুধ যখন অর্ধেক হয়ে যাবে, তখন তা নামিয়ে একটু ঠাণ্ডা করে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও জ্বর কমে যায়।
১৩. এছাড়া এলাচ হিং এর সঙ্গে মিশিয়ে ওর মধ্যে সন্ধক নুন এর জল, এরেন্ডীর তেলের সঙ্গে মিশিয়ে যে কোন ধরণের ব্যথার স্থানে লাগান, যন্ত্রনা কমে যাবে।


[ ... ]

লবঙ্গ নামক উপাদেয় মসলার ভেষজ গুন


লবঙ্গ খুবই ঝাঝালো, উপাদেয়, ঘ্রাণময় একটি মসলা। মূলত ইন্দোনেশিয়ায় এর জন্ম। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে বিশ্বের সর্বত্র এই মসলা ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় এর আদিবাস হলেও্ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়। এর রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ। সাধারণত রান্নার সময় এই মসলাটি ফোড়ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুধু মসলা নয় ওষুধ হিসেবেও লবঙ্গের বেশ গুরুত্ব আছে। এতে ২০-২৫ শতাংশ ক্লোভ তেল এবং ১০-১৫ শতাংশ টাইটার পেনিক এসিড থাকে, যার ফলে এটা খেতে ঝাঁজালো। এর আরেক নাম "লং"। মার্চ থেকে জুন মাসের ভেতরে ফুল থেকে ফল হয়। পাকার আগেই বৃতিসহ ফুলের কুঁড়ি সংগ্রহ করা হয়। আর তা রোদে শুকিয়ে আমাদের পরিচিত লবঙ্গ তৈরি হয়। লবঙ্গ গাছ ৩০ থেকে ৪০ ফুট উঁচু হতে পারে। চিরসবুজ, বহুসংখ্যক নরম ও নিম্নগামী ডাল চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। ছাল ধূসর বর্ণ ও মসৃণ। পাতা সরল ও বিপরীত। উপবৃত্তাকার, পাঁচ ইঞ্চির মতো লম্বা। কচি পাতা লালচে। ফল মাংসল, প্রায় এক ইঞ্চি লম্বা।

নামকরণ:
বাংলায়: লবঙ্গ বা লং
ইংরেজী: Clove
বৈজ্ঞানিক নাম: Syzygium aromaticum
গোত্র: Myrtaceae।

লবঙ্গের আরও যেসব গুণ রয়েছে তা হলো_
১. কফ ও কাশি দূর করে
২. খিদে বাড়ায়, রুচীর পরিবর্তণ আনে।
৩. কৃমি জাতীয় রোগ প্রতিরোধ করে।
৪. এটা পচনরোধক।
৫. এটা শরীরে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
৬. গলার সংক্রমণরোধক হিসেবে কাজ করে।
৭. যৌন রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য খুবই উপকারি।
৮. দাতের ব্যাথায় দারুণ কার্যকর।
৯. বমিভাব কমায়।
১০. পায়োরিয়ার ক্ষেত্রে উপকারী।
১১. ক্রিয়েটিভিটি এবং সেন্টাল ফোকাস বাড়ায়।
১২. লবঙ্গ তেলের রয়েছে ব্যকটেরিয়া নামক জিবানু ধ্বংসের ক্ষমতা।

(চলবে) আগামীতে অন্য কোন ভেষজ উপকরণ।
[ ... ]

তুলসী পাতার ভেষজ গুন


তুলসী গাছ আমাদের আশেপাশেই থাকে অনেক সময় । কিন্তু, আমরা তার সদ্ব্যবহার করতে পারি না। শুধু পুজো-অর্চনাতেই তুলসী পাতার প্রয়োজন পড়েনা ৷ আয়ুর্বেদে তুলসীকে ভেষজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে ৷

নাম:
বাংলা : তুলসী
অন্যান্য ভাষায় : Holy basil, Tulsi तुलसी (Hindi, Tamil, Telugu), Trittavu (Malayalam), Tulshi (Marathi)
বৈজ্ঞানিক নাম: Ocimum sanctum
গোত্র: Lamiaceae

পরিচয়:
সাধারনত ভেজা মাটিতে তুলসী গাছের জন্ম হয়ে থাকে । তুলসী শাখা প্রধান গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। গাছটির সমস্ত শরীরে একধরণের সুক্ষ্মতা বিদ্যমান । পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ ৭৫-৯০ সে.মি. হয়। শাখা-প্রশাখা শক্ত ও চতুষ্কোনাকার। তুলসী ঔষধি ও চিরহরিৎ গুল্মজাতীয় গাছ। পাতা ২ থেকে ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। তবে এর পাতার কিনারা খাঁজকাটা। শাখা-প্রশাখার সামনের অংশ থেকে পাঁচটি ফুলের ডাল বের হয় এবং প্রতিটি ডালের চারদিকে ছাতার মতো ১০ থেকে ১২টি স্তরে থরেথরে ফুল ধরে। তুলসী গাছের ফুল, ফল এবং পাতার একটি ঝাঁজালো গন্ধ আছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সর্বত্র এ গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এ গাছের গুণাগুণের কথা বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থেও উল্লেখ আছে।

ফযীলত:
নানা রোগে এ গাছের রসের ব্যবহার সেই প্রাচীনকাল থেকে। গাছটি কৃমিনাশক, বায়ুনাশক, হজমকারক ও রুচিবর্ধক হিসেবে বহুল ব্যবহৃত।
১. চর্মরোগে তুলসী পাতা দূর্বাঘাসের ডগার সংগে বেটে মাখলে ভালো হয়ে যায়।
২. জ্বর হলে পানির মধ্যে তুলসী পাতা, গোল মরিচ এবং মিশ্রী মিশিয়ে ভাল করে সেদ্ধ করে নিন ৷ অথবা উপরিউক্ত তিনটে দ্রব্য মিশিয়ে বড়ি তৈরি করুন ৷ দিনের মধ্যে তিন-চার বার ঐ বড়িটা পানি দিয়ে সেবন করুণ । জ্বর খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবে।
৩. কাশি হলে তুলসী পাতা এবং আদা একসাথে পিষে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খান ৷ এতে উপকার পাবেন ৷
৪. ডাইরিয়া হলে ১০ থেকে বারোটি পাতা পিষে রস খেয়ে ফেলুন।
৫. মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে ৪-৫ বার তুলসী পাতা চেবান ।
৬. আপনার শরীরে যদি কোনরকম ঘা যদি থাকে তাহলে তাহলে তুলসী পাতা এবং ফিটকিরি একসঙ্গে পিষে ঘা এর স্থানে লাগান।
৭. শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান, এতে জ্বালাপোড়া কমে যাবে। পোড়া জায়গাটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে এবং পোড়া দাগ ওঠে যাবে।
৮. ত্বকের রোশনি বাড়ানোর জন্য, ত্বকের বলীরেখা এবং ব্রোন দূর করার জন্য তুলসী পাতা পিষে মুখে লাগান।
৯. প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর করতে হলে তুলসী পাতার রস ২৫০ গ্রাম দুধ এবং ১৫০ গ্রাম জলের মধ্যে মিশিয়ে পান করুন ।
১০. যদি কখনও বমি কিংবা মাথা ঘোরা শুরু করে, তাহলে তুলসী রসের মধ্যে গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
১১. সকালবেলা খালি পেটে তুলসী পাতা চিবিয়ে রস পান করলে খাবার রুচী বাড়ে।
১২. নিয়মিত তুলসীর রস পানে হৃদরোগেও উপকার পাওয়া যায়।
১৩. চোখের সমস্যা দূর করতে রাতে কয়েকটি তুলসী পাতা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ওই পানি দিয়ে সকালে চোখ ধুয়ে ফেলুন।
[ ... ]

ফুলের নাম সর্পগন্ধা




গাছের পরিচিতি

বৈজ্ঞানিক নাম: Rauwolfia serpentina
নামঃ সর্পগন্ধা
রাজ্যঃ উদ্ভিদ
বিভাগঃ সপুষ্পক
শ্রেণীঃ ম্যাগনোলিয়োপ্সিডে()
বর্গঃ জেন্সিয়ানালেস()
পরিবারঃ অ্যাপোসায়ানেসি()
গণঃ রাউলফিয়া
প্রজাতিঃ সার্পেন্টিনা


এটি একটি গল্মজাতীয় গাছ । এই গল্মটির পাতা ছোট ছোট লম্বা ও পাতার ডগা সরু । ফুল প্রথম অবস্হায় সবুজ রঙের হলেও পাকালে বেগুনী কালো রঙের হয় । মূলের রং ধূসর ও গন্ধ কাঁচা তেঁতুলের মত সারা বছরই গাছে ফুল ফোটে ও ফল ধরে ।

মাটি ও আবহাওয়া

বেলে দোঁয়াস বা দোঁয়াস মাটিতে সর্পগন্ধা ভাল জন্মায়। গরম ও আদ্র জলবায়ু এই বনৌষধিটি পছন্দ করে।

চারা তৈরী
চারা বীজ থেকে বা সেকড়ের টুকরো থেকে তৈরী করা যায় । বর্ষার শুরুতে বীজতলায় বা পলিথিন প্যাকেটে চারা তৈরী করা যায় । মূল শেকড় বা শাখাশেকড়ের টুকরো দু ইঞ্চি গভীরে লম্বালম্বি নালীতে লাগান হয় । চারা লাগানোর প্রায় কুড়ি দিন পর নিড়েন দিতে হবে । প্রয়োজন গাছের পাতা বা ডাল ছেঁটে দিতে হবে । এতে শেকড়ের বৃদ্ধি ভাল হবে ।

পরিচর্যা
গাছ বড় হলে মাটির রস কমে গেলে মাঝে মাঝে সেচ দিতে হবে । নিড়ানির সাহায্যে আগাদা দমন ও মাটি ঝুর ঝুরে করে দিতে হবে ।

ফসল তোলা
ডিসেম্বর – জানুয়ারী মাসে মাটি খুঁড়ে শেকড় তোলা হয় । শেকড়গুলি জমে ভালভাবে ধুয়ে রৌদ্রে শুকিয়ে নিয়ে তারপর ব্যবহার করতে হবে ।


উপকারিতা
গাছের মূল নানা প্রকার রোগের চিকিত্সায় লাগে । মূলকে চুর্ণ করে অল্প পরিমান খেলে উওজনা ও ঘুম ভাল হয় । দৈহিক দূবর্লতা ও মানসিক অবসাদ জনিত রোগেও মূলের চুর্ণ ব্যবহৃত হয় ।


- নেট থাইক্য
[ ... ]

সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১১

আকন্দ গাছের উপকারীতা

সুত্র : ঔষধি উদ্ভিদ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার।-এ এ হাকিম
Akondo Tree
পরিচিতি: আকন্দ মাঝারি ধরনের ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদ। ৮ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছের ছাল ধুসর বর্ণের এবং কান্ড শক্ত ও কচি ডাল লোমযুক্ত। পাতা ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি লম্বা উপরিভাগ মসৃণ এবং নীচের দিক তুলোর ন্যায়। ক্ষুদ্র বৃন্ত এবং বৃন্তদেশ হৃদপিন্ডাকৃত। গাছের পাতা শাখা ভাঙলে দুধের মত সাদা আঠা বের হয়। সাদা বা বেগুনি বর্ণের ফুল হয়।
প্রাপ্তি স্থান: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকন্দ জম্নে।
চাষাবাদ : ৩ থেকে ৪ ফুট দুরুত্বে আগন্দ গাছ লাগাতে হয়। তবে মে- জুন মাসে ফল পাকলে ফেটে বীজ বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এ সময় এটি চাষ করা ভালো। এছাড়াও কাটিং পদ্ধতিতেও এটি চাষ করা যায়। প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণ: ১লক্ষ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজারটি।
বীজ সংরক্ষন: বীজ থেকে বংশ বিস্তর সম্ভব হলেও সাধারণ এর মোথা ও সাকার অংশ থেকে বংশ বিস্তার হয়ে থাকে। আকন্দ ব্যবহার্য অংশ: ফুল, পাতা, শিকড় ও আঠা।
উপকারিতা / লোকজ ব্যবহার: আকন্দ চুলের রোগ, ব্যাথা এবং বিষনাশে বিশেষ কার্যকরী। দাদ ও টাকপড়া নিবারক। আকন্দের কষ তুলায় ভিজিয়ে লাগালে দাত ব্যথা দুর করে এবং যোনিতে ধারণ করলে গর্ভপাত ঘটায়। আকন্দ বাদ বেদনা নিবারক ও ফোলা অপসারক। আকন্দ পাতা ও হলুদের তৈরি বড়ি শোথ/ ফোলা/পান্ডু রোগ নাশখ এবং রস কৃমি নাশক।
Akondo Tree 2
কোন অংশ কি ভাবে ব্যবহার করতে হয়:
অম্বল/এসিডিটি দেখা দিলে: ০.৬৫ গ্রাম পরিমাণ আকন্দ পোড়া ছাই পানিসহ পান করলে সঙ্গে সঙ্গে উপকার পাওয়া যায়।
পেট কাপড়ানি বা পেট জ্বালায়: আকন্দ পাতার সোজা দিকে সরিষার তেল মাখিয়ে পাতাটি অল্প গরম করে পেটের উপর রাখলে বা ছেঁক দিলে পেট কামড়ানো বা পেট জ্বালা বন্ধ হয়।
শোথ/ফোলা রোগে: আকন্দ বিশেষ উপকারী। ফোলাজনিত কারনে কোন স্থান ফুলে উঠলে আকনদ পাতা বেঁধে রাখলে উপকার পাওয়া যায়।
শ্বাস কষ্টে: আকন্দের শিকড়ের ছাল প্রথমে গুড়া করে তারপর আকন্দের আঠায় ভিজিয়ে রেখে পরে শুকিয়ে নিতে হবে। এর পর তা চুরুট বানিয়ে ধুমপান করলে শ্বাস কষ্ট ভাল হয়।
নিউমোনিয়াজনিত বেদনায়: আকন্দ পাতার সোজা দিক ঘি মেখে ব্যথার জায়গায় বসিয়ে লবনের পুটলি দিয়ে ছেক দিলে উপকার পাওয়া যায়
হজম শক্তি কমে গেলে: ২ গ্রাম পরিমাণ শুকনো আকন্দ মুল গুড়া করে খেলে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। আয়: প্রতি একর জমিতে বার্ষিক ৮০ থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আকন্দ চাষ করে আয় করা সম্ভব।
[ ... ]

রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১১

রক্ত কুঁচ এর নানা কথা



এই প্রজাতির বেশ কটা নাম আছে। যেমন রতি, গুঞ্জা, চূড়ামণি। চট্টগ্রামের দিকেই এই কুঁচের বেশি দর্শন মেলে। হেমন্তকালে এর গোলাপি ছোপলাগা ফুলে ভরে যায় এই লতাগুল্ম, দূর থেকে অনেকটা শিম ফুলের মতো দেখায়। এই রক্তকুঁচের এক ঘনিষ্ঠ প্রজাতি আছে, যার ফুল সাদা আর ফল দুধে আলতা মেশানো রঙে সমুজ্জ্বল; আমাদের দেশের রূপকথার কুঁচবরণ কন্যার গায়ের রঙের মতো। কিন্তু রক্তকুঁচের বীজ উজ্জ্বল লাল রঙের আর নিচের দিকে এক কালো ফোঁটা। সোনারুদের দোকানে এই বীজ দেখা যায় সোনা মাপার ওজন হিসেবে। তাই এর এক নাম রতি।
রক্তকুঁচ লতানো উদ্ভিদ, ব্যাংককের মাহিদোল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেষজ উদ্ভিদের দ্বিতীয় বাগানে ঢোকার পথেই এর দেখা মেলে। থাই-চীনা ভেষজ জগতে এর গুরুত্ব বড় একটা নেই। কারণ, এর বীজে আছে অ্যাব্রিন নামের রাসায়নিক পদার্থ, যা শরীরের জন্য বিষাক্ত। যে জন্য ওষুধ হিসেবে এর ব্যবহার সীমিত। কিন্তু ভারতীয় বনৌষধির সমীক্ষায় রক্তকুঁচের পাতা, বীজ ও মূলের নির্যাসের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। বীজের নির্যাস জীবাণুনাশক ও ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার এক ভেষজ হিসেবে চিহ্নিত। পাতার রস সর্দি-কাশি ও কলিক ব্যথায় ব্যবহারের প্রথা প্রচলন আছে। ফলে রক্তকুঁচের ভেষজ ব্যবহারে থাই-চীনা ও ভারতীয় বনৌষধির মধ্যে বেশ পার্থক্য দেখা যায়।
রক্তকুঁচের বৈজ্ঞানিক নাম Abrus precatorius ও ইংরেজী নাম Abrus precatorius। পরিবার Leguminosae বা শিম পরিবার।
[ ... ]

প্রাকৃতিক ভেষজ নবঙ্গ



লবঙ্গ, আমাদের কাছে মসলা হিসেবে সুপরিচিত। তবে ইতিহাস ও ভেষজ হিসেবে এর ব্যবহার অতি সুবিদিত নয়। অতি প্রাচীনকাল থেকেই লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। প্রাচীন মিসরে মমি তৈরির সময় যেসব জীবাণুনাশক উপাদান ব্যবহার করা হতো, তার মধ্যে একটি উপকরণ ছিল লবঙ্গের গুঁড়ো। প্রাচীন ভারতে চরক সংহিতায় লবঙ্গের ভেষজ গুণাবলির ভূয়সী প্রশংসা দেখতে পাওয়া যায়। মধ্যযুগের রাজনিঘন্টুতে আছে ‘লবঙ্গ সোষ্ণকং মধুরং হিমম’ মানে তীক্ষ, বিপাকে মধুর রস। লবঙ্গের বেশ কটি সমলংকৃত নাম আছে। যেমন দিব্য, শেখর, দেবকুসুম, ভৃঙ্গার, বারিসম্বর। এর আদি বাসস্থান মালাক্কা দ্বীপপুঞ্জ ও সেলিবিস দ্বীপ। এখন সুমাত্রা, মরিশাস, বোর্নিও দ্বীপপুঞ্জে চাষ হচ্ছে। দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরেও ব্যাপকভাবে এর চাষ হয়ে থাকে।
ইউরোপে মসলা হিসেবে লবঙ্গের ব্যবহার সুবিদিত ছিল। মার্কোপলো লবঙ্গের সুখ্যাতি ও সেই সঙ্গে এটি ইউরোপে প্রবর্তন করেছিলেন তেরো শতকে। তাই ইউরোপে লবঙ্গের ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক হয়ে পড়ে। পর্তুগিজ, ওলন্দাজ ও ফরাসিদের মধ্যে লবঙ্গের ব্যবসা নিয়ে ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। ফলে ষোল ও সতের শতকে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাদের মধ্যে এই ব্যবসার কর্তৃত্ব নিয়ে।
এবার লবঙ্গগাছের কথা বলা যাক। ৩০ থেকে ৪০ ফুট উঁচু হতে পারে। চিরসবুজ, বহুসংখ্যক নরম ও অবনত শাখা চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। ছাল ধূসর বর্ণ ও মসৃণ। পাতা সরল ও বিপরীত। উপবৃত্তাকার, পাঁচ ইঞ্চির মতো লম্বা। কচি পাতা লালচে। পুষ্পবিন্যাস ডালের আগার দিকে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী এক একটি ডালে তিন থেকে চারটি ফুল দেখা যায়। পাপড়ি চারটি, সাদাটে। অনেক পুংকেশর। গর্ভাশয় বহির্বাসের ভেতরে।
ফল মাংসল, প্রায় এক ইঞ্চি লম্বা। মার্চ থেকে জুন মাসে ফুল ও ফল হয়ে থাকে। পাকার আগেই বৃতিসহ ফুলের কুঁড়ি সংগ্রহ করা হয়। আর তা রোদে শুকিয়ে আমাদের পরিচিত লবঙ্গ তৈরি হয় (বাণিজ্যিক নাম ক্যালিস)। চীনের ভেষজ তালিকায় লবঙ্গ সুগন্ধি দ্রব্য হিসেবে পরিচিত। চীনা খাবারে লবঙ্গের ব্যবহার হয় না। তবে ভেষজ হিসেবে, দাঁতের ব্যথা ও পেটের অসুখে এর ব্যবহার প্রচলিত। আর ভারতীয় ভেষজে লবঙ্গের অনেক ব্যবহার দেখা যায়। প্রধান গুণাগুণের তালিকা এই রকম: উত্তেজক, সুগন্ধি, অগ্নিমন্দা ও পেটের বায়ুতে উপকারী। আর আছে জীবাণুনাশক শক্তি। লবঙ্গের প্রধান রাসায়নিক উপাদানগুলো হলো ইউজেনল, ক্যারিওফাইলিন। লবঙ্গ প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium aromaticum। আগের নাম ছিল Eugenia caryophyllus। পরিবার Myrtaceae। এটি ইংরেজীতে Clove নামে পরিচিত। এর ঘনিষ্ঠ প্রজাতি হচ্ছে কালোজাম ও গোলাপজাম। আমাদের দেশের স্যাঁতসেঁতে ও গরম আবহাওয়া লবঙ্গগাছের বৃদ্ধির অনুকূলে নয়।
লবঙ্গ (Syzygium aromaticum, অন্য নাম Eugenia aromaticum or Eugenia caryophyllata) এক প্রকারের মসলা। লবঙ্গ গাছের ফুলের কুড়িকে শুকিয়ে লবঙ্গ মসলাটি তৈরী করা হয়। খাদ্যদ্রব্যে মসলা হিসাবে এটি ব্যবহার করা হয়। লবঙ্গের আদি বাস ইন্দোনেশিয়ায়, তবে বর্তমানে এটি পৃথিবীর সর্বত্র ব্যবহৃত হয়। জাঞ্জিবার, ইন্দোনেশিয়া ও মাদাগাস্কারে লবঙ্গ চাষ করা হয়। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকাতেও লবঙ্গের চাষ হয়ে থাকে।
FAO এর ২০০৫ এর উপাত্ত অনুসারে ইন্দোনেশিয়াতে পৃথিবীর ৮০% লবঙ্গ উতপাদিত হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মাদাগাস্কার ও তাঞ্জানিয়া।
লবঙ্গকে আস্ত অথবা গুড়া অবস্থায় রান্নায় ব্যবহার করা হয়। এর গন্ধ কড়া বলে অল্প পরিমাণে দিলেই চলে। ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশের প্রায় সব দেশেই এর ব্যবহার বিদ্যমান। ইন্দোনেশিয়াতে ক্রেটেক নামের সিগারেটে সুগন্ধি হিসাবে লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়। চীনা ও জাপানীরা ধুপ হিসাবে লবঙ্গ ব্যবহার করে থাকে।
ভারতীয় উপমহাদেশের খাদ্যে দীর্ঘকাল ধরে লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়ে আসছে। মেক্সিকোর খাদ্যেও এর ব্যবহার রয়েছে। এসব এলাকায় জিরা ও দারুচিনির সাথে লবঙ্গকে ব্যবহার করা হয়।
লবঙ্গের সুগন্ধের মূল কারণ “ইউজেনল” (Eugenol) নামের যৌগ। এটি লবঙ্গ থেকে প্রাপ্ত তেলের মূল উপাদান, এবং এই তেলের প্রায় ৭২-৯০% অংশ জুড়ে ইউজেনল বিদ্যমান। এই যৌগটির জীবাণুনাশক এবং বেদনানাশক গুণ রয়েছে। লবঙ্গের তেলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো অ্যাসিটাইল ইউজেনল, বেটা-ক্যারোফাইলিন, ভ্যানিলিন, ক্র্যাটেগলিক অ্যাসিড, ট্যানিন, গ্যালোট্যানিক অ্যাসিড, মিথাইল স্যালিসাইলেট, ফ্ল্যাভানয়েড, ইউজেনিন, র‌্যাম্নেটিন, ইউজেনটিন, ট্রি-টেরপেনয়েড, ক্লিনোলিক অ্যাসিড, স্টিগ্মাস্টেরল, সেস্কুইটার্পিন।
[ ... ]

সিংকোনা এর ভেষজ গুন



আমরা জানি, সিংকোনা গাছের ছাল থেকেই ম্যালেরিয়ার মহৌষধ কুইনান তৈরি হয়। এই সিংকোনা গাছের আছে এক চমকপ্রদ ইতিহাস। দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও বলিভিয়ার আন্দেজ পাহাড়ে সিংকোনা গাছের আদি বাসভূমি। ওখানকার আদিবাসীরা জ্বর নিরাময়ে এই গাছের ছালের নির্যাস ব্যবহার করে আসছে অতি প্রাচীনকাল থেকে। ১৬৩৮ সালের দিকে পেরুর স্প্যানিশ গভর্নরের স্ত্রী কাউনটেস সিংকোনা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। ওখানকার আদিবাসী বৈদ্যদের সিংকোনার ছাল থেকে তৈরি ওষুধ খেয়ে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। ইউরোপে ফেরার সময় এই গাছের কিছু বীজ সঙ্গে নিয়ে আসেন। কাউনটেসের নাম অনুসারে এই গাছের নামকরণ করা হয় Cinchona। কালক্রমে জেজ্উইট পাদ্রিরা জ্বরের এই অমোঘ ঔষধি গাছের প্রজাতি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে সম্প্রসারণ করে থাকেন। ইংরেজদের হাতেও এই গাছের বীজ চলে আসে। তাদের ভারতীয় উপমহাদেশের কলোনিতে এই সিংকোনা গাছের সম্প্রসারণ হয়ে থাকে উনিশ শতকের মধ্য ভাগ থেকেই। বিশেষ করে ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল, শ্রীলঙ্কা ও বার্মায়। এই সম্প্রসারণেরও আছে বিস্ময়কর ঘটনাবলি। তত্কালীন ভারতবর্ষের ভাইসরয়ের স্ত্রী লেডি ক্যানিংসের পরামর্শে কলকাতায় রয়েল বোটানিক্যাল গার্ডেনের সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ডারসন সাহেবকে জাভায় পাঠানো হয় সিংকোনা চাষের নিয়মাবলি জানার জন্য ১৮৫০ সালের দিকে। উদ্দেশ্য, দর্জিলিং এলাকায় এর চাষ সম্প্রসারিত করা। কিন্তু অ্যান্ডারসন সাহেব সেখানে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারপর স্যার জর্জ কিংয়ের প্রচেষ্টায় দার্জিলিংয়ের মংপু ও কালিম্পং অঞ্চলে সিংকোনার চাষ সম্প্রসারিত হয়। আর সেই সঙ্গে কুইনাইন টেবলেট তৈরি করার কারখানা স্থাপিত হয় মংপুতে।
সিংকোনার বেশ কয়েকটি প্রজাতি ও তাদের হাইব্রিডের চাষ বর্তমানে দেখা যায় এশিয়ার বেশ কয়েকটা দেশে। কয়েক প্রজাতির ছাল থেকে হলুদ রঙের কুইনার প্রস্তুত হয়। Cinchona officinali Calisaya থেকে মূলত সাদা কুইনান তৈরি হয়। তাদের পরিবারের নাম Rubiaceae। গাছ সাধারণত ২৫-৩০ ফুট উঁচু হয়। গাছের কাণ্ড গোলাকার। ছাল ধূসর বর্ণের। পাতা বিপরীত ও চার-পাঁচ ইঞ্চি লম্বা। বৃন্ত ঈষত্ লালবর্ণ। পুষ্পদণ্ড বহু শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট। পুষ্পদণ্ডের আগায় গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল হয়। আকারে ছোট, হালকা গোলাপি। ফল লম্বাকৃতি। বীজ ছোট চেপ্টা। মে মাসে ফুলের আগমন হয়।
সিংকোনা গাছের ছালে আছে অ্যাকালয়েডস কুইনিন ও কুইনিডিনস। কুইনান ম্যালেরিয়া জ্বরে এক অব্যর্থ মহৌষধ। টাইফয়েড ও বক্ষপ্রদাহ রোগের এক প্রতিষেধক। কুইনিডিন হূিপণ্ড রোগের এক উপকারী ওষুধ, বিশেষ করে ‘কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া’ উপসর্গে।
সিংকোনা সমতলের গাছ নয়। পাহাড়ি অঞ্চলে শীতল আবহাওয়ায় এর শ্রীবৃদ্ধি। কালিম্পংয়ের কাছে মংপু সিংকোনা বাগানের এক বাংলোয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শেষ জীবনে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে লিখলেন:
ওই ঢালু গিরিমালা রুক্ষ ও বন্ধ্যা
দিন গেলে ওরি পরে জপ করে সন্ধ্যা
নিচে রেখা দেখা যায় ওই নদী তিস্তার
নিঠুরের স্বপ্নে ও মধুরের বিস্তার…
[ ... ]